বিভিন্ন ধর্মে নারীর মর্যাদা

বিভিন্ন ধর্মে নারীর মর্যাদা

-আহমেদ উল্লাহ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আয়কর আইনজীবী  :

অধুনা আধুনিক বিশ্বে নারী জাতীর মর্যাদা এবং অধিকার নির্ণয়ে স্বঘোষিত বিজ্ঞজনদের মতামত পরাবস্তবতার নীরিখে অনেকটাই বাস্তবতা বিবর্জিত। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সাড়ে সাতশ’ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশী নারী। মানব সৃষ্টির উষালগ্ন হতেই মাতৃউদর মুক্ত হয়ে মানব সৃষ্টি ও বিকাশের মৌলিক সূত্র- যা কোনভাবেই পরিবর্তন যোগ্য নহে। পার্থিব স্বর্গের বাস্তবরূপ মাতৃবক্ষ এবং মায়ের আঁচল। গর্ভাবস্তা হতে আমৃত্যু মায়ের করস্পর্শ, স্বর্গীয় আভা-সাদৃশ্য হাসি সন্তানের কল্যান সাধনে বিনিদ্র রজনী যাপন মানব জাতির সুষ্ঠ বিকাশের বিজ্ঞান সম্মত বিধি। অথচ সৃষ্টির আদিকাল হতে অদ্যাবধি পুরুষ সম্প্রদায় নারীর প্রতি কাংখিত আচরন করেনি এবং করছে না। প্রাণী জগতে বিবেকের মাপকাঠিতে এরচে’ কোন মারাত্মক অপরাধ আছে কিনা আমার জানা নেই। মানুষ সংঘবদ্ধভাবে বসবাসের সূচনালগ্ন হতেই অনেকটা নিজেদের অনুভুতি এবং বিশ্বাসের মাপকাঠিতে বিভিন্ন বিশ্¦াস ও ধর্মের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতো এবং আজও করছে। সে সুপ্রাচীনকাল থেকে অদ্যাবধি মানব রচিত অথবা প্রবর্তিত কোন ধর্মই বিজ্ঞান সম্মত নয় এবং মানবজাতির জন্য কল্যানকরও নয়। ব্যক্তিস্বার্থ আর নির্লজ্জ ভোগ পুরুষের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম শক্তিধর নারী জাতি হারিয়েছেন এবং হারাচ্ছেন তাদের মর্যাদা এবং সাশ্বত অধিকার। পুরুষেরচে’ তুলনামূলকভাবে অধিকতর আবেগ প্রবন নারী জাতি সর্বকালের মতো আজও অসহায়ত্বের সর্বশেষ সিঁড়িতে দন্ডায়মান, যা মানবিক ও বিজ্ঞান সম্মত ধর্ম নয়, যে ধর্মে বা ধর্মগ্রন্থে পুরুষ নারী জাতিকে শুধুই দাসি বা ভোগের বস্তু মনে করে- সে ধর্ম আসলেই যে অর্থে ধর্মের প্রচলন সে অর্থে তা পরিত্যাজ্য হওয়া উচিৎ। তবে মানুষ লোভ লালসার বশবর্তী হয়ে সাধারণতঃ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এটা স্বাভাবিক। তবে ধর্ম এক্ষেত্রে নৈতিক অবক্ষয়কে উৎসাহিত করলে সে ধর্ম নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।দেব দেবী নির্ভর ধর্মগ্রন্থগুলো পড়লে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, এসব ধর্মে দেব দেবীদের যে চারিত্রিক চিত্র এবং দেব দেবীদের মুখ নিসৃত বানী- যা মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রেরনা যোগায়- তা আসলে এক প্রকার পর্নোগ্রাফি এবং চাদাবাজির নগ্ন ওকালতি ছাড়া আর কিছুই নয়। নারী নির্যাতন, নারী ভোগ আর সাধারণ ধর্মাচারীদের উপর চাঁদার বাধ্যবাধকতা। ধর্ম তো মানুষকে যে কোন অপরাধ প্রবনতার হাত হতে রক্ষা করার বিধান। আসলে এসব ধর্মই মানব রচিত যদিও রচনাকারীরা নিজেরাই ছিলেন অমানুষিক আচরনে দুষ্ট। সমাজের মুর্খ সাধারন মানুষের অবাধে রক্ত শোষন আর অসহায় নারী জাতির সম্ভ্রম লুটের বলগাহীন বিধান। এরা যাদের দেবতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তা সে সব দেবতা বা দেবীদের দুর্বিনীতি অনৈতিক আচরন সর্বকালেই ঘৃনিত এবং পরিত্যাজ্য। যে দেব দেবী নিজেরাই অপরাধের ভাবে নুব্জ, খুনি, লম্পট- তার অনুসারীরাতো সে অপরাধই করতে হবে। নচেৎ হবে ধর্মচ্যুত। ভাবতে অবাক লাগে, জ্ঞান বিজ্ঞানের এ পূর্ণতার যুগেও বিশ্বব্যাপী মানব জাতি কীভাবে এসব ধর্মের ধর্মাচারী হয়ে পৃথিবীতে মাথা উঁচবু করে চলে। নিজেদেরকে বিজ্ঞ বলে দাবী করে? নারী জাতিকে অমর্যাদা করে কোন ধর্ম তার সঠিকত্ব প্রমান করতে পারেনা। যে দেবতা নারীকে অস্বীকার করেন, তিনিতো নিজেই অকৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞতাবোধের মাপকাঠিতেই মানুষের মনুষত্ব নির্নীত হয়। ব্যাভিচারী, ধার্মিক, অর্থলোভী লোক সর্বকালেই গর্হিত, নিন্দিত এবং অমানুষ হিসেবে বিবেচিত। আর যারা এদের অনুরন করবে, তারা সবাই একই বিশেষনে বিশেষায়িত হইবে, এটাই পরাবস্তাবতা। আমি বিশ্বাস করি, অনুকরনীয় কোন আদর্শিক দেব-দেবী চারিত্রিক স্খলন দোষে দুষ্ট ছিলো না। পরবর্তীতে ধর্ম গুরুরাই নিজেদের ভোগ বিলাশকে জায়েজ করার জন্য দেব-দেবীদের চরিত্রে কালিমা লেপন করেছে।
এবার পৃথিবীর লুপ্ত সভ্যতা, ধর্মীয় জনকওম এবং বর্তমান প্রচলিত প্রধান প্রধান ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থে মায়ের জাতি নারীকে কিভাবে মূলায়ন করছে তা দেখুনঃ
১। প্রাচীন গ্রীক ধর্ম মতে, “নারী পুরুষের সমকক্ষ নয় বিধায় নারীর মর্যাদা প্রাপ্য নহে।”
২। গ্রীকদের বিশ্বাস, ‘মনিবের নিকট যেমন ক্রীতদাস, বৃদ্ধিজীবির নিকট দৈহিক শ্রম, সুসভ্য গ্রীকদের নিকট বর্বর যেমন, পুরুষের নিকট নারীর মর্যাদাও তেমন।”
৩। পুরুষ স্বভাবতই শ্রেষ্ঠ, নারী নিকৃষ্ট। পুরুষ শাসন করবে, নারী শাসিত হবে।
৪। মেেেয়দের ইচ্ছা শক্তি খুবই দুর্বল। ক্ষুদ্র স্বার্থ ও তাদের লালসাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। নারী স্বাধীনতা নারীর জন্যও বিপজ্জনক।
৫। রোমানরা হাজার হাজার বছর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে নারীর অধিকারে বিশ্বাসী ছিলনা।
৬। ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বলা আছে, “নারী শয়তানের প্রবেশ দ্বার। নারী তার দৈহিক গঠন ও সৌন্দর্যের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। নারী ¯্রষ্ঠার বিধান ভঙ্গকারী।”
৭। তাওরাতের ভাষ্য মতে, “স্ত্রীূলোক মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর। ¯্রষ্টার নিকট ঐ ব্যক্তিই সৎ, যে স্ত্রীলোক হতে নিজকে রক্ষা করে চলে। হাজার নারীর মাঝেও একজন সৎ নারী পাওয়া যাবে না।”
৮। ইহুদী ধর্ম মতে পুত্র সন্তান উৎপাদনের জন্য নারীকে যে কেহ ব্যবহার করতে পারে।
৯। স্পার্টার সভ্যতার পতনের জন্য গ্রীক দার্শনিক এরিষ্টোটল স্পার্টাবাসিদের প্রদত্ত নারী স্বাধীনতাকেই দায়ী করেন।
১০। গ্রীসের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সালোনিকা হতে ৪০০ কিলোমিটার পূর্বে এজিয়ান সাগরে অবস্থিত মাউন্ট এয়োন পাহাড়ের পাদদেশের ৩৯০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এথনাইট প্রজাতন্ত্র একটি খ্রীষ্টান যাজক শাসিত ছোট রাষ্ট্র। ১০৬০ সালের প্রনীত খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় আইন মোতহাবেক এ দ্বীপ রাষ্ট্রে কোন নারী এমনকি স্ত্রী জাতীয় কোন প্রাণী যথা গাভী, ছাগী, ভেড়ি, মাদি কুকুর, মুরগী, হাঁসিও বসবাস নিষিদ্ধ। এখানে টিভি, রেডিও, গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিবেশী দেশ থেকে কট্টর ধর্মাচারীগন এদের খাদ্য বস্ত্র পাঠায়। পুরুষ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী।
১১। মায়া ধর্মের সর্বোচ্চ দেবতা বাপু কারিয়াত্তির নির্দেশ, ‘নারীর কোন মর্যাদাই নেই। তাদেরকে শুধু ফসলী জমির মতো কর্ষন করো।’
১২। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, ‘নরের ভোগের জন্যই নারীর সৃষ্টি। মর্যাদা তার প্রাপ্য নহে।’
১৩। খ্রীষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে উল্লেখ রয়েছে, ‘নারীর পাপের কারনেই ঈশ্বর পুরুষকে নারীর উপর কর্তৃত্ব দিয়েছেন।’
১৪। “ঈশ্বর নারীকে কহিলেন, “আমি তোমার গর্ভ তথা প্রসব ব্যথা অতিশয় বৃদ্ধি করিয়া দিবো। তুমি বেদনাক্লান্ত অবস্থায় সন্তান প্রসব করিবে। স্বামীর প্রতি তোমার ভালোবাসা থাকিবে এবং সে তোমার উপপর কর্তৃত্ব করিবে।”
১৫। “যে ব্যক্তি তার কন্যাকে বিয়ে দেয়না, ঈশ্বরের বিবেচনায় সে উত্তম।’ (জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, তাহলে এসব ধর্ম গুরুদের কে জন্ম দিতো?)
১৬। “প্রত্যেক পুরুষের অধিকর্তা যীশু, আর নারীর অধিকর্তা পুরুষ।”
১৭। “নারীরা গীর্জায় নীরব থাকিবে, কারন তাহাদের কথা বলার অধিকার নাই।”
১৮। খ্রীস্টান ধর্ম যাজক মোস্তামের মতে, “নারী এক অর্র্নিবার্য আপদ। মোহনীয় মোড়কে আবৃত বিভীষিকা। পরিবার ও সংসারের জন্য হুমকি স্বরূপ।”
১৯। বৃটেনের খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের ১৮০৫ সাল পর্যন্ত স্ত্রীকে বিক্রি করার ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অধিকার কার্যকর ছিলো।
২০। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে শিশু এবং পাগলের মতো নারী সম্প্রদায় সর্ব প্রকার নাগরিক অধিকাদর বঞ্জিত ছিলো এবং তা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ছিলো।
২১। বৌদ্ধধর্ম মতে, “নারীর সাথে বসবাস করার চাইতে বিষধর সাপ, ভয়ংকর বাঘ কিংবা ধারালো ছুরিকার নীচে পতিত হওয়া শতগুনে শ্রেয়।”
২২। চীনা ধর্ম ও দর্শনে প্রচলিত বিশ্বাস, “নারী কোন অবস্থাতেই বিশ্বাসী নয়।”
২৩। ইতালীয়দের সমাজ রাষ্ট্রে হাজার হাজার বছর ব্যাপী একটি প্রবাদ বাক্য চালু রয়েছে যে, “ঘোঢ়া চটপটে বা অলস যাই হোক, তাকে চালাতে চাবুক ব্যবহার করো। আর নারী সতী বা অসতী যাই হোক, তাকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করো।”
২৪। হাজার বছর ব্যাপী রাশিয়ানদের বিশ্বাস ছিলো, “নারীর কোন আত্মাই নেই।”
২৫। খ্রিষ্টানদের বিখ্যাত তিন প্রধান ধর্মগুরু-যারা বাইবেল সংকলনের সাথে জড়িত-সেন্ট পল, সেন্ট জুডিথ ও সেন্ট অগাষ্টাস এরা সবই অবাধ নারী ভোগের পক্ষে ফতোয়া জারী করেন। তাদের মতে, “নারীর মর্যাদা দুদ্ধবর্তী গাভীর উর্ধে নয়।”
২৬। ভগবনা মুনি বলেছেন, “নারী মূল্যহীন এবং পশু পাখীর মতই অমর্যাদাকর। নারী আর কুকুর সমগোত্রীয়। তাই পূজা পডার্বনে নারী ও কুকুর দর্শন করলে পূজাই হয় না।”
২৭। মনু বলেন, “মহিলাদের সম্পূর্ণভাবে অধীনস্থ রাখতে হবে, তাদের উপর নির্যাতন করলেও প্রতিবাদের অধিকার তাদের নেই।”
২৮। ১৮২৪ সালে গৌরমোহান বিদ্যালংকার তার রচিত “স্ত্রী শিক্ষা” নামক বইতে লিখেন-
ক) শিক্ষা লাভের উপযুক্ত মানসিক শক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি মেয়েদের নেই;
খ) স্ত্রী শিক্ষা লোকাচার বিরুদ্ধ ও শাস্ত্রে নিষিদ্ধ;
গ) স্ত্রী লোক বিদ্যাশিক্ষা করলে পতি বিয়োগ ঘটে এবং চিরকাল কষ্ট ভোগ করবে;
ঘ) বিদ্যাবর্তী হলে নারী মুখরা, অহংকারী, দুশ্চরিত্রা এবং নিজ বংশকে কলংকিত করবে; এবং
ঙ) স্ত্রী শিক্ষা পুরোটাই অকল্যানকর।
২৯। মহাভারতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, “ন স্ত্রী স্বাতন্ত্রমর্হাবিং” অর্থাৎ স্বাধীনতায় নারীর কোন অধিকার নেই।”
৩০। ঐতরেয় ব্রাহ্মন গ্রন্থ মতে, “সেই নারীই উত্তম বলে বিবেচিত, যে শুধুই স্বামীকে সন্তুষ্ট করে, স্বামীর কথার উপর কথা বলেনা এবং পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়।”
৩১। অপস্তম্ব ধর্ম সূত্র নামক গ্রন্থের মতে, “নারী উত্তম কি অধম তা নির্ভর করে পুরুসের সন্তষ্টির উপর।” এবং “পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্য্যা।” অর্থাৎ শুধুমাত্র পুত্র সন্তান জন্ম দেয়ার জন্যই বিবাহ প্রথা।
৩২। বোধায়ন ধর্ম সূত্র মতে, “নিঃসন্তান বধুকে বিয়ের দশ বছর পর, কন্যা সন্তান জন্মদায়িনীকে ১২ বছর পর, মৃত বৎসাকে পনের বছর পর এবঙ মুখরা কলহপরায়নাকে তৎক্ষনাৎ পরিত্যাগ করিবে।”
৩৩। বোদায়ন মর্ধসূত্র মতে, “অপুত্রা পতিœ পরিত্যাক্তা।”
৩৪। বশিষ্ট ধর্ম সূত্র মতে, “পুত্র সন্তান না জন্মালে স্বামী বিয়ে করবে।”
৩৫। অপস্তম্ব ধর্ম সূত্র মতে, “নারীর বেদ অদ্যায়ন নিষিদ্ধ।”
৩৬। “কোন বিদ্যা শিক্ষার অধিকার এবং নিজের শরীরকে পুরুষের অবাঞ্চিত ভোগ হতে রক্ষা করার অধিকার নারীর নেই।”- মৈসত্রয়নী সংহিতা এবং তৈত্তরীয় সংহিতা।
৩৭। শতপথ ব্রাহ্মন গ্রন্থ মতে, “অতিথি সৎকারে, উৎসবে, যুদ্ধে, যজ্ঞে, যৌতুক দানে ও গুরুদক্ষিনায় গাভী, স্বর্ণ শস্য, হাতি ঘোড়ার সঙ্গে নারী দান ধর্মীয় বিধান।”
৩৮। ঐতরের ব্রাহ্মন মতে, “কন্যা অভিশাপ। সর্বগুনে গুনাম্বিতা নারী ও অধমতম পুরুষের চেয়ে হীন। নারী অশুভ সকল অমঙ্গলের হেতু।”
৩৯। ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে বলেন, “নারীর চেয়ে অশুভতর আর কিছু নেই। নারীর প্রতি পুরুষের কোন ¯েœহ-মমতা থাকা উচিত নয়।”- মহাভারত।
৪০। “মানুষের পূর্ব জনমের পাপের ফলে নারী হয়ে জন্মাতে হয়। নারী সাপের মতো, পুরুষ তাকে কখনও বিশ্বাস করতে নাই। ত্রিভূবনে এমন কোন নারী নেই, যে স্বাধীনতা প্রাপ্তির যোগ্য।”
৪১। যুধিষ্ঠির বলেছেন, “নারীর দ্বারা বংশ কলংকিত হয়।”
৪২। মহাভারতে যুধিষ্ঠির ভীষ্মকে আরো বলেছেন, “আদিকালে অর্থাৎ নারী জাতির জন্মের আগে- পুরুষ জাতি এতোটাই ধর্মপরায়ন ছিলো যে, এতে দেবতারা ঈর্ষা পরায়ন হন এবং পুরুষ জাতিকে ধর্মচ্যূত করার জন্য নারী জাতির সৃষ্টি করেন।”
৪৩। “ধার্মিক নারী তাকেই বলা যায় যে, নারী তার স্বামী ব্যতিত কোন চন্দ্র, সূর্য, পশু-পাখি এমনকি গাছ পালা ও দর্শন করেনা।”
ধর্মীয় মোড়কে নারী ভোগ
৪৪। গ্রীকদের সর্বোচ্চ দেবতা জিয়াস ছিলেন মদ্যপ। মদের জন্য পিতৃ হতাকারী এবং সহোদরা অর্থাৎ আপন বোন হিরাকে অবিরত ধর্ষণকারী।
৪৫। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেবরাজ ইন্দ্র নিজ সহোদরা অহল্যাকে ভোগ করতেন।
৪৬। শ্রী কৃষ্ণের আপন মামির সাথে সংগম এর কেচ্ছা কে না জানে?
৪৭। সূর্য দেবতা নিজ কন্যা কুন্তিকে অহর্নিশ ধর্ষণ করতেন।
৪৮। শ্রী কৃষ্ণের মা সত্যবতিকে ধর্ষণ করেছেন পরাশর মুনি নামক একজন দেবতা সাদৃশ্য ব্রাহ্মন- যার অবৈধ সন্তানই শ্রী কৃষ্ণ।
৪৯। ভগবান মুনিও ধর্ষক। তিনি ধর্ষন করেছেন বালি রাজার স্ত্রী মমতাকে।
৫০। ধৃত রাষ্ট্রের মা এবং অম্বালিকাকে ধর্ষণ করতেন বাসুদেব।
৫১। দূর্গারই পরিবর্তিত রূপ দেবী কালী। আর শিব দূর্গারই গর্ভজাত সন্তান।
৫২। সতী সীতার সাথে রামের সম্পর্ক ভাই বোন। রামের দু’বছরের ছোট সীতা। এই সতী সীতাকেই বাল্মীকি নামক একজন দেব ধর্ষণ করে বহুদিন। আর এতে জন্ম গ্রহন করে লব ও কুষ নামক দু’টি পুত্র সন্তান।
৫৩। সতিত্বে সাবিত্রী তার বোন জামাই বৈরাঠ দ্বারা গর্ভবতি হন। তারই গর্ভজাত সন্তান দেবী শাকুন্তলা।
৫৪। মৎসগন্ধা দেবীর অবৈধ সন্তানই সর্পদেবী হিসেবে পূজিত তুলশী দেবী।
৫৫। শ্রী রাওয়ালের লিখা “আবদারী মেয়ে” নামক পুস্তকে উল্লেখ রয়েছে যে, ভারতের কেরালা রাজ্যে ব্রাহ্মন রমনী ছাড়া অপর সকল সম্প্রদায়ের নারীদের স্তনের উপর ট্যাক্স ছিল। এ সব সম্প্রদায়ের রমনীরা বুক ঢেকে চলতে হলে যে ট্যাক্স দিতে হতো- তার নাম ‘মলাক্করন’ ট্যাক্স। স্তন যতো বড় হতো ট্রাক্স ততো বেশী দেয়ার বিধান কার্যকর ছিলো। আর এ ট্যাক্স জমা হতো ‘পদ্ম নাভ’ মন্দিরে। আদায় করতেন ধর্মগুরুরা।

পঞ্চতত্ত¡ রহসে্যঃর ব্যাখা-মহাদেবের মুখ নিসৃত বানী
“হে অদ্যে, শক্তিপূজা পদ্ধতিতে অপরিহার্য করনীয় হিসেবে মদ্যপান, মাংস ভক্ষন, মৎস্য ভক্ষন, মুদ্রা ভক্ষন ও নাী সংগমের নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।”
ক) “রজঃ স্বলার সহিত সংগম পুকুরে ¯œান করার তুল্য, চন্ডালী সংগম কাঁশী যাত্রার তুল্য, চর্মকারিনীর সহিত সঙ্গম প্রয়াগে ¯œানের তুল্য, রজকী সংগম মথুরা তীর্থ যাত্রার তুল্য এবং বেদ কন্যার সাতে সঙ্গম অযোধ্যা তীর্থ পর্যটনের তুল্য পূন্য কর্ম।”
খ) ভৈরবী চক্রঃ একদল নরনারী অগম্য নির্গম স্থানে মিলিত হয়ে ভৈরবী চক্র রচনা করে উপবেশন বা দন্ডায়মান হইবেক। ইচ্ছেমাফিক অর্থাৎ নিজের পছন্দমত একজন পুরুষ একজন রমনীকে বাছিয়া লইয়া তাকে বিবস্ত্র করতঃ তাকে প্রথমে পূজা করিবে। অনুরূপভাবে একজন নারী একজন পুরুষকে পছন্দ করে প্রথমে তাকে বিব¯্র করে পূজা দেবে। পূজা পর্ব শেষে চলবে মদ্য পান ও মাংস ভক্ষন। তারপর উলঙ্গ অবস্থায় চলবে যৌন সংগম। সম্ভব হলে একাধিক নর-নারী পরস্পরকে সঙ্গম করিবে। এক্ষেত্রে শুধুৃ জন্মদায়িনী মা-ছাড়া বোন, কন্যা, যায়া বা যে কোন নর-নারী পরষ্পর উপগত হতে পারবে। এক্ষেত্রে সহোদরা সংগমে কোন দোষ বর্তাবেনা।”
আহবান করা হয় এভাবে, “হে রমনীগন। তোমাদের মোক্ষের পথ ভক্তকুলের পূজারীদের অর্ঘ্য স্বরূপ তোমাদের দেহ দান করো।”
-তথ্য সূত্রঃ “ মহা নির্বানতন্ত্র”-৫ম উল্লাস-২২ নং শ্লেক।
রোমানরা খ্রীষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে তাদের পূজিত পশু ও উর্বরতার দেবতা লুপারকাসের সম্মানে ভালোবাসা দিবস উদযাপন শুরু করে। এ ধর্মীয় উৎসবের উপাচারের বিধান ছিলো-যুবতী মেয়েদের লটারীর মাধ্যমে অবিবাহিত যুবকদের মাঝে এক বছরের জন্য অর্থাৎ পরবর্তী ভালোবাসা দিবস পর্যন্ত বিতরন করে দেয়া। এ অনুষ্ঠানে যুবতী মেয়েদেরকে অতি সংক্ষিপ্ত ছাগলের চামড়া পরিহিত অবস্থায় ধর্মীয় বিধান মোতাবেক কুকুর ও শুকুরের রক্ত¯œাত চাবুক দিয়ে মৃদু প্রহার করতো, আর ধর্ম গুরু তাদের সন্তান ধারনের ক্ষমতার জন্য আশীর্বাদ করতেন। অবশ্য এখানে বিেেয়র রীতি পালন করা হতো না। এটা প্রকৃত পক্ষে ধর্মের মোড়কে নারী ভোগের কৌশল মাত্র। ১৪৯৮ সালের ১৫ই ফেব্রæয়ারীকে খ্রীষ্টান ধর্মাচারীদের সর্বোচ্চ নেতা পোপ প্রথম গেলারিয়াস এ উৎসবকে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস হিসেবে ঘোষনা করেন। এটি খ্রীষ্টান ধর্মাচারীদের ধর্মীয় উৎসব। আর এ উৎসব এখন আমাদের যুবক শ্রেনীও পালন করে।
সুদীর্ঘকাল “দেবযানী” প্রথাও ছিলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির কেন্দ্রিক, ধর্মের নামে নির্লজ্জ নারী ভোগের কৌশল। আজও ভারতের কিছু মন্দিরে ইচ্ছুক যুবতী কুমারী মেয়েদের বিবস্ত্র অবস্থায় ১৫ দিন অবস্থান করে গুরু সেবা করতে হয়। যৌনাচারে উদ্ভাসিত হয় ধর্মীয় বিধান। এ নারী তো মায়েরই প্রতীক। আর এ অনাচারে নাকি গুরুর হবে পাপস্খলন আর নারী অর্থাৎ ধর্ষিতা হবে পরিশুদ্ধা!!! সময়ের বিবর্তনে ধর্মীয় এসব আচরনের কিছুটা পরিবর্তন ঘটলেও আপসোস হয় ধর্ম গুরুদের লাম্পট্টের জন্য আর অনুসারীদের বোকামীর জন্য। ধর্মের নামে নারী ধর্ষনের বিধান কোন ধর্মীয় নির্দেশই নয় বলে আমার বিশ্বাস। এসব সম্ভব হয় ধর্মাচারীদের শস্তা আবেগ আর বোকামীর জন্য। আর সবচে’ আপসোস হলো প্রকৃতপক্ষে কোন ধর্মাচারীই ধর্ম গ্রন্থ পড়ে জানতে চায়না। বিবেক কে ব্যবহার করে না। তাইতো কম বেশী বেশীরভাগ ধর্মেই নারীকে অবজ্ঞা করে এবং অনৈতিকভাবে উপবোগ করে। মানব জাতির সচেতনাতাই পারে মায়ের জাতিকে ভন্ডামীর হাত হতে রক্ষা করতে।
ঢাকা-১৭ই অক্টোবর-২০২১ইং।

Please follow and like us:
0
20
Pin Share20

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::
RSS
Follow by Email
YOUTUBE
PINTEREST
LINKEDIN