নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্টার অফিসে লাগামহীন দূর্নীতি -উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি নীরব থাকবেন?

নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্টার অফিসে লাগামহীন দূর্নীতি -উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি নীরব থাকবেন?

কুমিল্লা প্রতিনিধি :নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্টার অফিসের ঘুষ দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার কেউ নেই। যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয়। যা দলিল লেখকগণের মাধ্যমে আদায় করা হয়। সাধারণ দলিল লেখকগণকে অতিরিক্ত ঘুষের টাকা গুনতে হয়। এই প্রতিবেদক গত সপ্তাহের বুধবার দিন সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী ফিরোজ আলমের সামনে দাড়িয়ে ঘুষের টাকা গ্রহণের ভিডিও ধারন করেন। এতে দেখা যায়, একজন দলিল লেখক ৫০০ টাকার ৪০টি নোট ফিরোজ আলমের হাতে দেন। এতে তিনি আরও ১০০০ টাকা দাবি করেন। তখন ওই দলিল লেখক আরও ৫০০ টাকা দিয়ে চলে যান। আরও একজন দলিল লেখককে ফিরোজ আলম বলেন যে, আপনার দলিল কয়টা? দলিল লেখক বলেন, আমার দলিল ৭টা। তখন ফিরোজ আলম সাদাকাগজে লেখা নামের তালিকা দেখে বলেন যে, আপনার ফি ১৬৫০০ টাকা। সাথে সাথে ওই দলিল লেখক ১৬৫০০ টাকা পরিশোধ করেন। অপর একজন দলিল লেখক ৩টি দলিল ফি বাবদ ৮৪০০ টাকা পরিশোধ করেন। যা সরকারি ফি এর সাথে কোন সম্পর্ক নাই। দলিলের ফি বাবদ সরকারের পাওনা টাকা দাতা-গ্রহীতাগণ ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর কি কারণে অফিসে অতিরিক্ত টাকা জমা নেওয়া হয়-এর ব্যাপারে অফিস সহকারী ফিরোজ আলমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার শ^াশুড়ি অসুস্থ্য। এ ব্যাপারে আমি এখন কিছু বলতে পারবো না। এই প্রতিবেদক আরও প্রত্যক্ষ করেন যে, সাব রেজিষ্টার কয়েকজন দলিল লেখকের দলিল এজলাস থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন, তখন দলিল লেখক ফেরত দেওয়া দলিল নিয়ে অফিস সহকারী ফিরোজ আলমের সাথে কানে কানে কথা বলছেন। অথবা দর কষাকষি করছেন এবং তৎপর সমঝোতায় পৌছেছেন। তখন ফিরোজ আলম সাব রেজিষ্টারকে দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য অনুরোধ করার সাথে রেজিষ্ট্রি করিয়ে দেন। এতে আরও প্রত্যক্ষ করা হয়, ফিরোজ আলম কয়েকজন দলিল লেখকের সাথে উচ্চ বাচ্য করছেন টাকা কম-বেশি দেওয়া নিয়ে। পরবর্তীতে কয়েকজন সাধারণ দলিল লেখককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা এ বিষয়ে কোন কিছু প্রকাশ করতে অপাগরতা প্রকাশ করেন। তবে একজন দলিল লেখক অতিরিক্ত টাকা প্রদানের বিষয়ে বলেন, এটা শুধু নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্টার অফিস নয়, অন্য অফিসেও অতিরিক্ত টাকা প্রদান করতে হয়। নাঙ্গলকোট অফিসে হয়তো অন্য অফিস থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে আমাদের দলিল লেখক সমিতির ৫-৬ জন কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে অতিরিক্ত ঘুষের টাকা দিতে হয় না। সাব রেজিষ্টারের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তাদেরকে কোন প্রকার ঘুষ দেওয়া লাগে না। এ বিষয়ে দলিল রফিকুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, ওয়ারিশি সম্পত্তি বণ্টন প্রায় ৩ একর সম্পত্তির খরচ কত হবে। তিনি বলেন অফিসের খরচ দিতে এবং সাব রেজিষ্টারকে ১০-১৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্টার অসীম কল্লোলের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বার বার করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Please follow and like us:
0
20
Pin Share20

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::
RSS
Follow by Email
YOUTUBE
PINTEREST
LINKEDIN