জ্যোতি র্বিজ্ঞানের মাইলফলক

জ্যোতি র্বিজ্ঞানের মাইলফলক

আহমেদ উল্লাহ ভূইয়া -বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আয়কর আইনজীবী :

খ্রিষ্টপূর্ব- ৫৮৫ অব্দঃ সূর্যগ্রহন সম্পকে প্রথম ধারনার উদ্ভব।
-১৩০ অব্দঃ হাইপারক্লাস চাঁদের দূরত্ব এবং এর আয়তন নিরূপন করেন।
১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দে কোপারনিকাস দেখালেন যে সূর্যই সৌরমন্ডলের কেন্দ্রে অবস্থিত।
১৬০৯” জোহানেস কেপলার গ্রহপূঞ্জের আবর্তনের সূত্র বর্ণনা করেন।
১৬১০” গ্যালেলিও গ্যালেলি বৃহস্পতির উপগ্রহ আবিষ্কার করেন।
১৬৫৫” খ্রিশ্চিয়ান হাইজেন্স শনিগ্রহের উপগ্রহ তথা চাঁদ টাইটান আবিস্কার করেন।
১৬৮৭” আইজাক নিউটন গ্রহপূঞ্জের আবর্তনের সূত্র প্রকাশা করেন।
১৭০৫” এডমন্ড হেলি ধূম কেতুর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে মতবাদ দেন।
১৬৭১-৮৫” পিত্তভেন্নি ক্যাসিনি শনি গ্রহের ৪টি চাঁদ আবিস্কার করেন।
১৭৭৪” চার্লেস মেসিয়ার তারকা পূঞ্জের ক্যাটালগ তৈরী করেন।
১৭৮১” উউলিয়াম হার্শেল ৭ম ইউরেনাস গ্রহ আবিস্কার করেন।
১৮০১” গুইসেপ্পি পিয়াজ্জি সর্বপ্রথম মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তি গ্রহপূঞ্জ আবিস্কার করেন।
১৮৪৬” জোহান গেলি এবং আরবেইন লা ভেরিয়ার মহাশূন্যের ৮ম গ্রহ নেপচুন আবিস্কার।
১৭৮৭-৮৯” হার্শেল ইউরেনাস ও শনিগ্রহের ২টি করে চাঁদ আবিষ্কার করেন।
১৮৩৯-৪০” চাঁদের ছবি তোলা হয়।
১৮৯৪” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার ফ্ল্যাগস্টার পর্যবেক্ষন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৯০৫” আইনষ্টাইনের মধ্যাকর্ষন শক্তি মতবাদ প্রকাশিত হয়। অথচ তার জন্যেও ৬ শত বছর আগে ইরানের ইবনে হিশাম মধ্যাকার্ষন শক্তির আবিষ্কারক।
১৯০৮” বৃহত্তম এবং ক্ষুদ্র তারকার সংজ্ঞা দেয়া হয়।
১৯২৩” তারকাপূঞ্জের পেছনের ছায়াপথ প্রমানিত হয়।
১৯২৭” বিগ ব্যাংঙ থিওরি” সর্ব প্রথম উত্থাপন করা হয়।
১৯৩০” নবম গ্রহ প্লেটো আবিষ্কার করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লাইডে টমবপ।
১৯৫৯” সোভিয়েত উপগ্রহ লুনা-৩ চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবি পাঠায়।
১৯৬১” সর্ব প্রথম কোয়াশার আবিষ্কৃত হয়।
১৯৬৭” সর্ব প্রথম পুলসারস চিহ্নিত করা হয়।
১৯৭১” কৃষ্ণগহŸর সর্ব প্রথম চিহ্নিত করা হয়।
১৯৭৩” স্কাইল্যাব নামক মহাশূন্য ল্যাবরেটরী কক্ষপথে নিক্ষেপ করা হয়।
১৯৭৬” ইউরেনাস গ্রহের বর্হিচক্র আবিষ্কৃত।
১৯৭১” মহাশূণ্যযান মেরিনার-৯ মঙ্গলগ্রহের মানচিত্র ধারন করে।
১৯৮০” ভয়েজার-১ মহাশূণ্যযান শনিগ্রহে প্রেরন।
১৯৭৮” পায়োনিয়ার-১ এবং ২ শুক্র গ্রহে পৌঁছে।
১৯৯৮” আন্তর্জাতিক মহাশূণ্য স্টেশন নির্মান শুরু।
বিশ্বের সেরা জ্যোতিবিজ্ঞানীগন
মহাকাশ বা জ্যোতিবজ্ঞিান বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রহ দেখা যায় সাধারনতঃ ষোড়শ শতাব্দি থেকে। অথচ তারও সাতশত বছর আগেই মহাকাশ বিজ্ঞানের উল্লেখ করার মতো নির্ভুল তথ্য উপাত্ত বিশ্ব মানবের নিকট উপস্থাপন করেন যে সকল মহা মনীষী মুসলমান জ্যোতিবিজ্ঞানীগন, আমরা যেন তাদের ভুলেই গেছি। অষ্টম শতাব্দি থেকে একাদশ শতাব্দি পর্যন্ত মুসলমান জ্যোতির্বিজ্ঞানীগন মহাকাশ গবেষনায় যে অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন- তা আজও একেবারে নির্ভুল প্রমানিত। নবম শতাব্দিতেই খলিফা হারুন-অর-রশিদেও খেলাফরত আমলেই বাগদাদে স্থাপিত হয়েছিল এ্যাস্ট্রোল্যাব। মহাকাশ পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। ৮৪৩ খ্রিস্টাবে। অনুরূপভাবে সিরিয়াও সে সময়ে আরো ২টি এ্যাস্ট্রোল্যাব স্থাপিত হয়। ভাবতে অবাক লাগে আলবার্ট আইস্টাইনের জন্মেরও প্রায সাড়ে ছয়শত বছর আগে পারস্যেও ইবনে হিশাম নিভূলভাবে মধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেন।
ভুলে গেছি ৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহনকারী জ্যোতিবিজ্ঞানী আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমির মতো মনীষীকে। ভুলে গেছি জাবির ইবনে হাইয়ানের মতো জ্যোতিবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদকে, ইবনে হাইসামকে, আল কিন্দি, আল বলখিকে, আল-বাত্তানীকে- যিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন সৌর বছরের নির্ভুল সময়কাল- ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। শ্লেশিয়ান মোশনের যুগান্তকারী মতবাদ দাতা নূর-আল-দীন ইবনে ইসহাক আল বেতরুগিকে, ভুলেছি আল-সাইগের মতো জ্যোতির্বিদকে, ওমর খৈয়ামকে, সূর্যের সর্বোচ্চ গতির প্রমানকারী আল জারকালীকে, পৃথিবীর নির্ভূল ব্যাস নির্ণয়কারী আল- ফারগানীকে, ছায়াপথের নির্ভূল গঠন শনাক্তকারী নাসির উদ্দিন তুসিকে, পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারনকারী বানু মুসাকে, আলোক বিজ্ঞানের জনক ইবনে হিসামকে। ইবনে সিনাকে শুধু জানি চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে। অথচ জ্যোতির্বিজ্ঞানেও তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। ৭২৮ খ্রিস্টাব্দেই মহাকাশ পর্যবেক্ষন কেন্দ্র তথা মানমন্দির বাগদাদে নির্মিত হয়। আর এবিষয়ে বিজ্ঞানী ছিলেন হাজ্জাজ ইবনে মাসার এবং হুনাইন ইবনে ইসহাক। অথচ পঞ্চাদশ শতাব্দির শেষাব্দ ছাড়া ইউরোপীয়দের বিজ্ঞানজগতে পদার্পনের কোন তথ্য পাওয়া যায়না। সাম্প্রতিক এনসাইক্লোপিডিয়া অব সাইন্স পড়তে গেলে থমকে যাই, কারন সেখানে মুসলমান বিজ্ঞানীদের নাম পাওয়া যায় না। মজার ব্যাপার হলো দতুর্দশ শতাব্দিতে এবং পঞ্চাদশ শতাব্দিতে বাগদাদের পতন এবং মিশরের পতন ঘটে ইউরোপীদের হাতে-যারা সর্ব প্রথম বাগদাদ লাইব্রেরী এবং আকেজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরী হতে মুসলমান বিজ্ঞানীদের সমস্ত বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য উপাত্ত লুট করে নিয়ে যায়, যা আজও ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে দেখতে পাওয়া যায়। শিক্ষা ব্যবস্থার যে মৌলিক মূলধন কাগজ তাও ৭০৪ সালে বাগদাদের কাগজ কল স্থাপিত হয় মুসলমানদের দ্বারা। আর এখন শুনতে হয়-মুসলমানরা বিজ্ঞান মনষ্ক নয় এবং ইসলাম বিজ্ঞান মনষ্ক ধর্মও নয়!
মহাশূণ্যে ভ্রমনে বিভিন্ন জন্তু
বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় একমাত্র মানব জাতির অবদানই আমরা জানি। তবে মহাশূন্য ভ্রমনে মানুষের আগে বানর, কুকুর, বিড়াল, ব্যাঙ, মাকড়শা, ইঁদুর, মৌমাছি প্রভৃতি মহাশূন্য ভ্রমন করেছে। ১৯৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহাশূন্যে নয়-তবে শূন্যে আবর্তনকারী একটি জার্মান ভি-২ রকেটে পরিভ্রমনকারী হিসেবে ২টি বানর পাঠায়। দু‘টি বানরই মারা যায়। ১৯৫৭ সালের ৩রা নভেম্বর সৌভিয়েত রাশিয়া মহাশূন্যযান স্পুটনিক-২ মহাশূণ্যে উৎক্ষেপনন করে- যাতে ‘লাইকা’ নামক একটি জীবিত কুকুর ছিল। দীর্ঘ পরিভ্রমনের পর মহাশূণ্য যান পৃথিবীতে ফেরত আসে। কুকুরটিও জীবিত ছিল। ১৯৬০ এবং ১৯৬৩ সালে যথাক্রমে ¯্রামোয়েড এবং স্ট্রেলকা নামক দু’টি কুকুর এবং একটি বিড়াল মহাশূন্য ভ্রমন করার সৌভাগ্য অর্জন করে।
পশ্চিমা বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানীগন
১। জন কোচ এ্যাডামসঃ বৃটিশ মহাকাশ বিজ্ঞানী যিনি (১৮১৯-৯২) লিওনিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তিনি নেপচুন গ্রহের অবস্থান আবিষ্কার করেন ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে।
২। এডওয়ার্ড ইমারসন বার্নাডঃ (১৮৫৭-১৯২৩) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ইনি বার্নাড স্টার এবং আমালথিয়া নামক জুপিটার গ্রহের চাঁদ আবিষ্কার করে।
৩। নিকোলাস কোপারনিকাসঃ (১৪৭৩৩-১৫৪৩৩) পোল্যান্ডের জ্যোতিরর্বিজ্ঞানী। তিনিই আবিষ্কার করেন যে জ্যোতির্মন্ডলের কেন্দ্রে সূর্যের অবস্থান।
৪। গ্যালেলিও গ্যালিলিঃ ইতালির অংক শাস্ত্রবিদ। তিনিই প্রথম মধ্যকর্ষন শক্তি এবং গ্রহের গতি আবিষ্কার করেন। তিনি মহাকাশ পর্যবেক্ষনের জন্য দূরবীক্ষন যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
৫। জর্জ এলারি হেইলঃ (১৮৬৪-১৯৩৮) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞানী যিনি টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন-যার সাহায্যে মহাকাশের অনেক অজানা গ্রহপূঞ্জ আবিষ্কৃত হয়।
৬। এডমন্ড হেলিঃ (১৬৫৬-১৭৪২) বৃটেনের জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
তিনি ধুমকেতুর কক্ষপথ আবিষ্কার করেন।
৭। উইলিয়াম হারশেলঃ (১৭৩৮-১৮২২) জার্মান ও বৃটিশ নাগরিক। তিনি বৃহত্তম টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন। তৈরী করেন তারকা পূঞ্জের তালিকা, আবিষ্কার করেন শনিগ্রহ ও উইরেনাসের চাঁদ।
৮। এডউইন হাবলঃ গুরুত্বপূর্ণ ছায়া পথের আবিষ্কারক। হাবল, স্পেস টেলিস্কোপ তাঁর সম্মানেই নামকরন করা হয়।
৯। খ্রিশ্চিয়ান হিউজেনঃ (১৬২৯-১৬৯৫) হল্যান্ডের নাগরিক। ইনি শনি গ্রহের পরিবেষ্টিত চক্র আবিষ্কার করেন এবং আলোর তরঙ্গ আবিষ্কার করেন।
১০। পার্সিভাল লোয়েলঃ (১৮৫৫-১৯১৬) মার্কিন বিজ্ঞানী। তিনি যুক্তরাস্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত লোয়েল মহাশূন্য পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ভবিষ্যৎ বানী করেছিলেন যে, মহাশূন্যে একটি গ্রহ দেখা যাবে- যা প্লুটো নামে খ্যাত এবং পরে ঠিক তাই আবিষ্কৃত হয়।
১১। চার্লেস মেসিয়ারঃ (১৭৩০-১৮১৭) ফরাসী জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি ধুমকেতু এবং চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহনের উপর অধ্যায়ন করেন কিন্তু তিনি গ্রহপূঞ্জীর জন্যই বেশি পরিচিত।
১২। আইজাক নিউটনঃ (১৬৪৩-১৭২৭) বিশ্বের সেরা বৃটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাঁর মধ্যাকর্ষণ শক্তি বিষয়ক ধারনা এবং গ্রহ সমূহের গতি তথা ঘূর্ণায়ন বিষয়ক অভিমত তাকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অভিষিক্ত করেছে।
১৩। হেনরিক ওলবারসঃ (১৭৫৮-১৮৪০) জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি নক্ষত্র ও তারকাপূঞ্জ আবিষ্কারক হিসেবে খ্যাত।
১৪। গুইসেপ্পি পিয়াজ্জাঃ (১৭৪৬-১৮২৬) ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যবর্তী তারকাপূঞ্জ আবিষ্কার করেন। ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সিরিস গ্রহ আবিষ্কার করেন।
ঢাকাঃ ১২ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং।

আহমেদ উল্লাহ ভূইয়া -বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আয়কর আইনজীবী

Please follow and like us:
0
20
Pin Share20

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::
RSS
Follow by Email
YOUTUBE
PINTEREST
LINKEDIN