জামালপুরে ওষুধ নিয়ন্ত্রন আইনকে তোয়াক্কা না করে অঞ্জলী ফার্মেসীর চিকিৎসা-হুমকিতে জন সাধারণ

জামালপুরে ওষুধ নিয়ন্ত্রন আইনকে তোয়াক্কা না করে অঞ্জলী ফার্মেসীর চিকিৎসা-হুমকিতে জন সাধারণ

তৌকির আহাম্মেদ হাসু জামালপুর প্রতিনিধিঃ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার শিমলা বাজার অঞ্জলী ফার্মেসীতে ভুয়া ডাক্তার সেজে অপচিকিৎসা ও গড়ে উঠেছে জমজমাট ফার্মেসি ব্যবসা। আইনের কোন রকম তোয়াক্কা না করে শুধু মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই চলছে অঞ্জলী ফার্মেসীর অবৈধ ব্যবসা। রেজিস্টার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র প্রেসক্রিপসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিলীপ কুমার সাহা ও ছোট ভাই বিপ্লব কুমার সাহা সিরিয়াল দিয়ে রোগী দেখেন ও বেশি দামে ওষুধ বিক্রয় করেন। উপজেলার শিমলা বাজার অঞ্জলী ফার্মেসীতে নি¤œমানের ও নিষিদ্ধ ওষুধের ছড়াছড়ি রয়েছে ব্যাপক হারে। জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন থেকে প্রতি দিন প্রায় ৬০/৭০জন গরীব অসহায় দরিদ্র সাধারণ মানুষকে কালো চশমা পড়িয়ে তারা নিজেরাই প্রেসক্রিপসন এক্সরে ও সকল প্রকার রোগের টেষ্ট রিপোর্ট দেখেন দিলীপ কুমার সাহা ও ছোট ভাই বিপ্লব কুমার সাহা । বিভিন্ন উপজেলা থেকে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগী গুলোকে সিরিয়াল দেখিয়ে ২/৩ ঘন্টা বসিয়ে রেখে নি¤œমানের ও নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রয় করছে। এতে হুমকিতে পড়েছে এই অসহায় দরিদ্র দিনমজুর রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা। এসব বিষয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের নীরব ভুমিকায় দিলীপ কুমার সাহা ও বিপ্লব কুমার সাহার কাছে প্রতারিত হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। আরো জানা যায়, দিলীপ কুমার সাহা ও বিপ্লব কুমার সাহা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধির সাথে উপঢৌকনের মাধ্যমে নি¤œ শ্রেণীর ওষুধ কোম্পানীর থেকে ওষুধ নিয়ে তা রোগীদের গছিয়ে দেয়। যা অন্য নামকরা কোম্পানীগুলো ছিটকে পড়ে যাচ্ছে এবং রোগীরাও সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অঞ্জলী ফার্মেসীতে অধিকাংশই ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের বাইরে ঔষুধ সরবরাহ করে থাকেন এবং রোগীদের বলে থাকেন একই গ্রুপের ঔষুধ ডাক্তার যেটা লিখেছেন তার চেয়েও ভালো ঔষুধ আমি দিচ্ছি। এতে ইউনানীর নামে হরমোন ও বিভিন্ন মানহীন বোতলজাত ঔষুধ বিক্রি করছে দেদারছে যেন দেখার কেউ নেই।ফলে গরীব অসহায় দরিদ্র দিনমজুর রোগীরা সরল বিশ্বাসে প্রতিদিন প্রতারণার শিকার হচ্ছে। ফার্মেসিতে কোন এমবিবিএস ডাক্তার বসে না কিন্তু সারাক্ষণ দিলীপ কুমার সাহা ও ছোট ভাই বিপ্লব কুমার সাহা ডাক্তার সেজে বসে থাকেন। তাই উপজেলার গরীব নিরীহ অসহায় মানুষ ছোট-খাট অসুখে অনেক সময় সুচিকিৎসা লাভের আশায় আবার কখনো ভিজিটের ভয়ে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সরাসরি অঞ্জলী ফার্মেসীতে গিয়ে রোগের বর্ণনা দিয়ে ঔষুধ নেয়।জাতীয় ঔষুধ নীতিতে উল্লেখ্য করা হয়েছে ৩৯টি ঔষুধ ছাড়া কোন ্ওষুধ ব্যবস্থাপত্র বিহীন বিক্রি করা যাবে না। এছাড়াও ঔষুধের দোকানের ভিতরে তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রী সেঃ নীচে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে ্ওষুধের গুনগত মান সঠিক থাকে। ফার্মেসী গুলোতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টি বায়োটিক ঔষুধ বিক্রি না করার নির্দেশনা থাকলেও এই নির্দেশনা মানছে না অঞ্জলী ফার্মেসী। দিলীপ কুমার সাহা ও বিপ্লব কুমার সাহার দেয়া উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক ঔষুধ প্রয়োগের ফলে বিপরীত ফল হয় প্রায় প্রতিনিয়তই।আবার দেখা যায়,নিজেরাই প্রেসক্রিপশন করে শিশু বৃদ্ধ মহিলাদের ইনঞ্জেকশন পুশ করে থাকে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিলীপ কুমার সাহা ও ছোট ভাই বিপ্লব কুমার সাহা জানান এটা ভিটামিন জাতীয় ইনঞ্জেকশন এসব প্রায় মহিলারা এ ইনঞ্জেকশন ব্যবহার করে।দিলীপ কুমার সাহা আরো বলেন,বৈধ-অবৈধ সব কিছু মেনেই চিকিৎসা করছি।সরিষাবাড়ী ঔষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রবিউল কবীর উজ্জল বলেন, দিলীপ কুমার সাহা ও ছোট ভাই বিপ্লব কুমার সাহা তারা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নিয়মের বাইরে বহিভূতভাবে ফার্মেসী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এদের বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলে জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপমা ফারিসা বলেন, এ বিষয়টি আমি দেখবো।

Please follow and like us:
0
20
Pin Share20

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::
RSS
Follow by Email
YOUTUBE
PINTEREST
LINKEDIN