নভোমন্ডল, মহান শ্রষ্ঠার অপূর্ব সৃষ্টি

নভোমন্ডল, মহান শ্রষ্ঠার অপূর্ব সৃষ্টি

আহমেদ উল্লাহ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আয়কর আইনজীবী :

সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি নৈপূন্যের বিস্ময়কর সৃষ্টি নভোমন্ডল কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টির প্রথম প্রহর থেকে আজ অব্দি একই নিয়মে চলছে। মহাশূন্যে ভাসমান এসব কল্পনাতীত বৃহত্তম তারকারাজির একটিও যদি কক্ষচ্যূত হয়ে পৃথিবীতে পতিত হয়- তবে নিমিষে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। কোটি কোটি কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ঘুর্নিয়মান এসব নক্ষত্র সব সময়ই একই নিয়মে নিজ কক্ষপথ অতিক্রম করছে। আলো বিতরন করছে। নভোমন্ডলের এ শৃংখলা সত্যিই বিস্ময়কর। বিস্ময়কর মহান শ্রষ্টার সৃষ্টি কৌশল। তাইতো তিনি অদ্বিতীয়। দীপ্তিমান তারকাপূঞ্জ যেন বহন করে চলছে মহান শ্রষ্টার উজ্জল্য যাকে নূর বা আলো বলা হয়।
তারকারাজি মিট মিট করে জ্বলে, কারন আমরা এ তারকাপূঞ্জকে পৃথিবীর বায়ূমন্ডলের স্তর সমূহের মাধ্যমে দেখতে পাই। যেহেতু আলো এসব স্তরের মাধ্যমে অতিক্রম করে, তাই এসবের প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত রূপই দেখা যায়। দিগন্ত বা চক্রাবালের নিকটতম তারকাপূঞ্জে সবচে‘ বেশী মিটমিট করে, কারন এ আলো বায়ূমন্ডলের তুলনামূলক গভীর পথে প্রবাহিত। মহাশূণ্য হতে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে দেখলে দেখা যায় এ আলো প্রকম্পিত হয় না যেমন হাবল এর মাধ্যমে দেখলে দেখা যায়-আলো স্থীর।
তারকা সম্পর্কিত বিষয়াবলি ঃ তারকা হলো গ্যাসের উজ্জল অবয়ব বিশেষতঃ হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের সমষ্টি। তারকা আলো উৎপাদন করে, যার ফলে আমরা তা খালি চোখে এবং দূরবীক্ষন যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে পাই। এগুলো পারমানবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তঃস্থল হতে আলোর বিচ্ছুরন করে।

সবচে‘ উজ্জল তারকা ঃ সূর্য নয়- পৃথিবী থেকে দেখা যায় সবচে‘ বেশী উজ্জল তারকা ‘সাইরাস’ যাকে ডগ স্টার বা কুকুর তারকা বলা হয়। ক্যানিস মেজর তারকা পূঞ্জের মাঝে এর অবস্থান- যার ব্যস ১৪ কোটি ৯৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ২০ কিলোমিটার- যা সূর্যের আলো থেকে ২৪ গুন বেশী উজ্জল। সিগনাস ওবি-২ নামক নক্ষত্রটি ১৯৯২ সালে আবস্কৃত- যা পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। এটিই হতে পারে তারকাপূঞ্জের মাঝে সবচে‘ বেশী উজ্জল-যা সূর্য হতে ষাট লক্ষ গুন বেশী উজ্জল।
সবচে‘ ভারী তারকা ঃ এইচডিই- ২৬৯৮১০ নামক নক্ষত্রটি লার্জ মেজেলানিক ক্লাউড পৃথিবী থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। হপকিনস আলট্রা ভায়োলেট টেলোস্কোপের সাহায্যে আবিস্কৃত-যা সূর্য থেকে ১৯০ গুন ভারী।
সবচে‘ বড় নক্ষত্র ঃ সর্ব বৃহত্তম এম শ্রেনীর বেটেলজিউস বা আলপা অরিয়ন নক্ষত্র। অরিয়ন নক্ষত্রপূঞ্জের সর্ব বাম পাশের নক্ষত্র- যা ৩১০ আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত। এর ব্যস ৭০ কোটি কিলোমিটার-যা সূর্য হতে ৫০০ গুন বড়।
সবচে‘ নিকটস্থ নক্ষত্র ঃ ১৯১৫ সালে আবিস্কৃত প্রক্সিমা সেন্টেরী- যা ৪.২২ আলোক বর্ষ দূরে অর্থাৎ ৩৯,৯৫৩,৫২৫,৮৭.৯২১ কিলোমিটার দূরত্ব পৃথিবী থেকে। আর এতে পৌছাতে প্রতি ঘন্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতি সম্পন্ন একটি নভোযানের সময় লাগবে ১ লক্ষ ১৪ হাজার বছর।
সুপার নোভা ঃ এগুলো হলো এমন ধরনের বিস্ফোরন- যাতে একটি নক্ষত্র পুরোপুরি উড়ে যায়। এগুলো প্রচন্ড আলোকিত- যা বেশ কয়েক দিন ধরে ছায়া পতের সকল তারকারাজির আলোকে বৃদ্ধি করে থাকে। তবে সুপার নোভা কালেভদ্রে সংঘটিত হয়। সর্বশেষ সংঘটিত হয়েছিল ১৬০৪ সালে- যা জামৃান মহাকাশ বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলার পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
কোয়াসারস ঃ কোয়াসারস হলো একবোরে দূরতম রেডিও ছায়াপথ- যা প্রচুর পরিমানে বিশ্ব ভ্রমান্ডে শক্তি সঞ্চারন করে থাকে এবং আলো দেয়। বিশ্ব ভ্রমান্ডের যে কোন দূরতম প্রান্তের অবস্থানে যে কোন বেতার দূরবীক্ষনের মাধ্যমে দেখা যায়। বেতার নিগর্মন শ্রেনীগতভাবে সাধারণ ছায়াপথ থেকে ১০ লক্ষ হতে ১০ কোটি গুন বড় এবং বেতার ছায়াপথ হতে সবচে‘ বেশী উজ্জল।
কৃষ্ণ গহ্বর ঃ কৃষ্ণ গহ্বর হলো সে নক্ষত্র- যা নিজেই ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। এর উপরিভাগের মধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই বেশী যে এর থেকে কোন বস্তুই রক্ষা পায়না। সবই গিলে ফেলে।
ছায়াপথ সমূহ ঃ ছায়াপথ হলো শত শত কোটি তারকা পূঞ্জ যা মধ্যাকর্ষণ শক্তির সাহায্যে একটি আরেকটিকে একত্রিত করে ধরে রাখে। বেশীর ভাগ ছায়াপথই শাঁকের মতো পেঁচানো এবং ডিম্বাকৃতি-যদিও কিছু কিছু রেেয়ছে অনিয়মিত আকৃতির।
মিল্কিওয়ে ঃ সবচে‘ পরিচিত হলো মিল্কিওয়ে। গ্যালাক্সি বা ছায়া পথের নামকরন করা হয়েছে গ্রীক শব্দ ‘মিল্ক’ বা দূধ হতে। এটার এজন্য হয়েছে যে, শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র এতো শক্তিশালী ছিল যে, দূরের তারকাপূঞ্জ বা নক্ষত্র দেখা যেতো দুধের মত সাদা অথবা আকাশের মেঘাচ্ছন্ন এলাকা আমাদের তুলনামূলকভাবে ছোট সৌর অবস্থাই একশ কোটি থেকে দু‘শ কোটি তারকার সমন্বয়ে মিল্কিওয়ে ছায়াপথ গঠিত- যার ব্যস একলক্ষ কোটি আলোক বর্ষের সমান। সূর্য এবং সকল গ্রহ এর কক্ষপথ পরিভ্রমন করতে সময় লাগে অন্ততঃ ২০ কোটি বছর।
সর্বোচ্চ উজ্জল ছায়াপথ ঃ লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড যা শুধু দক্ষিন গোলার্ধে দেখা যায়। আর এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার আলোকবর্ষ দূওে এবং এর ব্যস ৩৯০০০ আলোক বর্ষের সমান।
বৃহত্তম ছায়াপথ ঃ কেন্দ্রীয় ছায়াপথ হলো ‘এ্যাবেল’ ২০২৯ ছায়া পথ যা ১৯৯০ সালে আবিস্কৃত। এর দূরত্ব ১০৭ কোটি আলোক বর্ষ দুরে-যার ব্যস ৫৬ লক্ষ আলোকবর্ষ, আমাদের ছায়াপথ হতে ব্যাসের পরিমান ৮০ গুন বেশী। আর এর আলোর পরিমান সূর্য হতে ২ ট্রিলিয়নগুন বেশী।
নিকটতম ছায়াপথ ঃ ১৯৯৪ সালে আবিস্কৃত স্যাগিটরিয়াস ডোয়ার্প- যা পৃথিবী হতে ৭০ হাজার আলোক বর্ষ দূরে। অর্থাৎ দূরত্ব হলো ৬৬০ কোয়াড্রিলিয়ন কিলোমিটার।
দূরতম দৃশ্যমান বস্তু ঃ খালি চোখে দৃশ্যমান বিশ্ব ভ্রম্মান্ডের বস্তুর মাঝে এনড্রোমিডা ছায়াপথ যা ২৩ লক্ষ ৯ হাজার আলোক বর্ষ দূরত্বে অবিস্থিত পৃথিবী হতে। এই ছায়াপথের ৩০০ বিলিয়ন তারকারাজি রয়েছে আর এর ব্যস ১ লক্ষ ৮০ হাজার আলোক বর্ষের সমান। পৃথিবীতে মানব আগমনের সময়কাল হতে এনড্রোমিডা র্দশ্যমান। সবচে‘ দূরের ছায়াপথঃ পৃথিবীর সর্ব দক্ষিনের পর্যবেক্ষ কেন্দ্র ইউরোপের দক্ষিনের পর্যবেক্ষন কেন্দ্র চিলির নক্ষত্র পর্যবেক্ষন বিজ্ঞানীরা ২০০৪ এর আবিস্কারের ঘোষনা দেন। আশ্চর্যজনকভাবে এর দূরত্ব পৃথিবী হতে ১৩.২ বিলিয়ন আলোক বর্ষ।
ভ্রাম্যমান আলোর গতি ঃ মাহকাশে আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯৭৯২.৪৬ মিলিয়ন কিলোমিটার বা ১০৭৯২৫২৯৫৬ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। যখন আমরা নিকটতম নক্ষত্রের দিকে তাকাই- যা দেখি তা চার বছর আগেই বিচ্চুরিত হয়েছিল। অনেক নক্ষত্র এতই দূরে অবস্থিত যে, যা ৬ কোটি ৫০ লক্ষ বছর আগেই বিচ্চুরিত হয়েছিল- যা ডাইনোসর যুগের অবসান কালীণ সময়। আর যদি তা ৪.৭ বিলিয়ন বছর আগের হয়ে থাকে তাহলে সে সময়টা ছিল পৃথিবী ও সূর্যের গঠন কালীন সময়ের দৃশ্য।
আলোক বর্ষ ঃ আলোক বর্ষ দূরত্বের পরিমাপক সময়ের নয়। মহাশূন্যের দূরত্ব আলোক বর্ষ হিসেবে পরিগনিত- তথা এক বছর সময় কালে আলো যতোটা পথ অতিক্রম করে। অবশ্য আলোর গতি প্রতি সেকেন্ড ১,৭৬,০০০ মাইল।
যেমনঃ চাঁদ হতে পৃথিবীতে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১.২৬ সেকেন্ড।
সূর্য হতে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ড।
প্লুটো হতে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৫ ঘন্টা ২০ মিনিট।
নিকটবর্তী নক্ষত্র হতে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪.২২ বছর।
সবচে‘ দূরত্বের ছায়াপথ হতে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৬২,৭০০ বছর।
ছায়াপথের বাইরের নিকটস্থ ছায়াপথ হতে পৃথিবীতে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১,৭৪,০০০ বছর।
সবচে‘ দূরত্বের নক্ষত্র কোয়াসার হতে পৃথিবীতে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৪,০০০,০০০,০০০ বছর।

রাতের আকাশে তারকারা তারকাপূঞ্জ সৃষ্টি করে। আকাশে ৮৮টি নক্ষত্র পূঞ্জ রয়েছে। আজ হতে ৫০০০ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক সুমেরিয়ান সভ্যতার আমলে এদের নাম করন করা হয়। মনে হয় তাদের চোখে যা যেভাবে ধরা পড়েছিল- তারা তাদের আকৃতি, পশু অথবা তাদের ধর্মীয় বোধের নীরিখে এগুলোর নামকরন করেছিল। যেমনঃ আকুইলা বা ঈগল, ড্রাকো বা ড্রাগন, কেনিসমেজর, গ্রেটডগ, অরিওন, হান্টার ইত্যাদি।

সৌরমন্ডল ঃ আজ হতে ৪৫৬ কোটি বছর আগে ৯টি গ্রহ, তাদের চাঁদ, ধুমকেতু এবং অন্যান্য উপগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রহগুলো- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন, প্লুটো। এসব গ্রহগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে অর্থাৎ সূর্যকে প্রদক্ষিন করে।

বুধ ঃ বুধ গ্রহের ব্যাস ৪৮৮০ কিলোমিটার। ওজন ৩,৩০২,০০০,০০০,০০০ টন। সূর্য হতে দূরত্ব ৫৭,৯০৯,১৭৫ কিলোমিটার। সূর্যকে প্রতি ৮৭.৯৬৯ দিনে একবার প্রদক্ষিন করে। গড় উত্তাপ +১৬৬.৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ গ্রহের চাঁদ নেই। আর বুধ গ্রহ অর্থাৎ গ্রীক ভাষায় এর নাম মার্কারী- যিনি গ্রীক ধর্মানুযায়ী সবচে‘ দ্রুতগামী দেবতা। জানামতে, কোন গ্রহই এতো তাড়াতাড়ি সূর্যকে প্রদক্ষিন করতে পারেনা। ২০০৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘঅঝঅ হতে ম্যাসেঞ্জার নামক একটি উপগ্রহ বুধ গ্রহে পাঠায়- যা ২০১১ সালে বুধগ্রহে পৌঁছে।

শুক্র গ্রহ ঃ এর ব্যাস ১২১০৩.৬ কিলোমিটার, ভর ৪৮,৬৯০,০,০০০,০০০ টন, সূর্য হতে এর দূরত্ব ১০৮,২০৮,৯৩০ কিলোমিটার, সূর্যকে প্রদক্ষিন করে ২৪৩.০১৮৭ দিনে। এর উপরিভাগে গড় উত্তাপ +৪৫৬.৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর কোন উপগ্রহ নেই, ভরের দিক বিবেচনা করলে শুক্রগ্রহ অনেকটাই পৃথিবীর মতো। শুক্রগ্রহ পেছন দিকে ঘোরে। ২০০৬ সালে ইউরোপিয়ান স্পেস এজন্সি প্রেরিত উপগ্রহ শুক্রগ্রহে পৌছে।

পৃথিবী ঃ এর ব্যাস ১২৭৫৬.৩ কিলোমিটার, ভর ৫৯,৭২০,০০০,০০০,০০০ টন, সূর্য হতে দূরত্ব ১৪৯,৬০০,০০০ কিলো মিটার, সূর্যকে প্রদক্ষিন কওে ০.৯৯৭২৭ দিনে, কক্ষপথ অতিক্রম করতে সময় লাগে ৩৬৪.২৫৬ দিন, গড় উত্তাপ +১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উপগ্রহ ১টি চাঁদ। পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ- যা পানি যুক্ত এবং এর শতকরা ৭০ ভাগ উপরিভাগ বা পৃষ্টাদেশ নীল রং এর মতো দেখায় এবং প্রানীকুলের জীবন রক্ষা করতে পারে। মহাশূন্য থেকে মহাশূন্যচারীগন পৃথিবীর শহর বন্দর, রাস্তাঘাট, বনবনানী, বিমান বন্দর, বাঁধ, বড় পিরামিড, চীনের দেয়াল ইত্যাদি দেখতে পান।

মঙ্গল গ্রহ ঃ ব্যাস ৬৭৯৪ কিলোমিটার। ভর ৬৪২১৯০০,০০০,০০০ টন। সূর্য হতে দূরত্ব ২২৭,৯৪০,০০০ কিলোমিটার। আবর্তন ১.০২৫৯৫৭ দিনে একবার ঘুরে। কক্ষপথ পরিভ্রমন করে ৬৮৬.৯৮ দিনে। গড় উত্তাপ -৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, প্রচন্ড ঠান্ডা। উপগ্রহ ২টি। মঙ্গল গ্রহে বেশ কটি উপগ্রহ অবতরন করেছে- যা এর আবহাওয়া, আগ্নেয়গিরি এবং ওলিম্পাস পর্বতের ছবি নিয়ে এসেছে- যা হিমালয় পর্বতের এভারেষ্ট শৃঙ্গ হতেও তিনগুন উচুঁ।

বৃহস্পতি গ্রহঃ ব্যাস ১৪২,৯৮৪ কিলোমিটার। ভর ১৮৯৮৬,০০০,০০০,০০০,০০০ টন। সূর্য হতে গড় দূরত্ব ৭৭৮,৪১২,০১০ কিলোমিটার। আবর্তন ৯ ঘন্টা ৫০ মিটিটে। কক্ষপথ পরিভ্রমনে সময় লাগে ১১ বছর ৩১৪ দিন। উত্তাপ +১৪.৮৫ ডিগ্রি হতে ১৯.৮৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আভ্যন্তরীন কেন্দ্রের উত্তাপ ৩০,০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। উপগ্রহ ৬৩ টি। সৌর মন্ডলে বৃহস্পতি সবচে‘ বড় গ্রহ। এটি প্রায় দশহাজার পৃথিবীকে ধারন করতে পারে। গ্রীক বিজ্ঞানী গ্যালিলি ১৬১০ সালে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে বৃহস্পতির ৪টি উপগ্রহ আবিস্কার করেন। ১৯৭৯ সালে মহাশূন্যযান ভয়েজার- ২ বৃহস্পতি গ্রহ সম্পর্কে আমাদেরকে সম্যক ধারনা দেয়।

শনিগ্রহঃ ব্যাস ১২০,৫৩৬ কিলোমিটার। ভর ৫,৫৮৪,৬০০,০০০,০০০,০০০ টন। সূর্য হতে গড় দূরত্ব ১৪২৬৭২৫৪০০ কিলোমিটার-আবর্তন ১০ ঘন্টা ৩৪ মিনিটে। কক্ষপথ পরিভ্রমনের সময় লাগে ২৯ বছর ১৬৮ দিন। গড় উত্তাপ -১৩৯.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস- অর্থাৎ প্রচন্ড ঠান্ডা। উপগ্রহ ৩৪টি। শনিগ্রহ দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ কিন্তু এর ঘনত্ব কম। এর পরিবেষ্টিত চক্রটি বরফ ও পাথরের তৈরী এটি মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝামাঝি অবস্থিত।

ইউরেনাস গ্রহ ঃ ব্যাস ৫১১১৮ কিলো মিটার। ভর ৬৮৬৩২০,০০০,০০০,০০০ টন। সূর্য হতে গড় দূরত্ব ২৮৭০০৯৭২২০০ কিলোমিটার, আবর্তনে সময় লাগে ১৭ ঘন্টা ১৭ মিনিট। কক্ষপথ পরিভ্রমনের সময় লাগে ৮৪ বছর ৪ দিন। গড় উত্তাপ -১৯৭.১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। প্রচন্ড ঠান্ডা, উপগ্রহের সংখ্যা ২৭টি। এ গ্রহটিও অনেকটাই শনি গ্রহের মত চক্র আছে- যা শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।

নেপচুন গ্রহ ঃ ব্যাস ৪৯৫২২ কিলোমিটার। ভর ১০২,৪৭০০,০০০,০০০,০০০ টন। সূর্য হতে গড় দূরত্ব ৪,৪৯৮,২৫২,৯০০ কিলো মিটার। আবর্তনে সময় লাগে ১৬ ঘন্টা ৭ মিনিট। কক্ষপথ পরিভ্রমনের সময় লাগে ১৬৪ বছর ২৯৮ দিন। গড় উত্তাপ -২০০.১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। প্রচন্ড ঠান্ডা। উপগ্রহের সংখ্যা ১৩টি। নেপচুন এবং প্লুটো পরস্পরকে অতিক্রম করে। ৯টি গ্রহের মাঝে নেপচুনের দূরত্ব সবচে‘ বেশী। প্রতি ২৪৮ বছরে এটি সবচে‘ দূরে চলে যায়। এর উপরিভাগে সর্বক্ষণ প্রচন্ড ঝড় প্রবাহিত হয়- যা প্রতি ঘন্টায় ২০০০ কিলো মিটার বেগে প্রবাহিত। নেপচুনের বৎসর গননাতে সবচে‘ বেশী সময় লাগে।

প্লুটো ঃ ব্যাস ২৩৯০ কিলোমিটার। ভর ১২৯,০০০,০০০,০০০ টন। সূর্য হতে গড় দূরত্ব ৬দিন ১৮ মিনিট। কক্ষপথ পরিভ্রমনের সময় লাগে ২৪৭ বছর ২৫৬ দিন। গড় উত্তাপ -২১৫.৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। উপগ্রহের সংখ্যা তিনটি। একটির নাম চ্যারন, বাকি দু’টির নামকরন করা হয়নি।

সূর্য বিষয়ক তথ্য ঃ পৃথিবী হতে সূর্যেও দূরত্ব ১৪৯৫৯৭৮৯৩ কিলো মিটার। এর ব্যাস ১৩৯১৪০ কিলো মিটার। সূর্য পৃথিবী হতে ১০০ গুন বড়। সূর্য পুরো সৌর পদ্ধতির একাই ৯৯.৯৮ শতাংশ।

সূর্য প্রধানতঃ দু’টি হালকা গ্যাসের সমন্বয়ে সৃষ্টি। এর শতকরা ৭৫ ভাগ হলো হাইড্রোজেন এবং শতকরা ২৩ ভাগ হিলিয়াম। আর অন্যান্য ধাতব পদার্থের মাঝে রয়েছে সোনা এবং অন্যান্য ধাতু।

উত্তাপঃ সুর্যের উপরিভাগের উত্তাপ ৫৮৮০ কেলভিন এর কেন্দ্রের উত্তাপ ৫,৬০,০০,০০০ কেলভিন। সুর্যের কেন্দ্রের আনবিক দ্রবন ক্রমাগতভাবে পরিবর্তনশীল। হাইড্রোজেন পরিবর্তিত হয় হিলিয়াম গ্যাস এ। আর এখান থেকে উত্তাপের সৃষ্টি হয়-সূর্য পৃষ্ঠে। আমরা সূর্যের যে হলুদ রং দেখি তাকে বলা হয়- আলোকমন্ডল।

সূর্য গ্রহনকালে সূর্যালোক ঃ সূর্যের সর্বশেষ বাইরের স্তর লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার পর্যন্ত মহাশূণ্যে বিরাজমান। আমরা শুধু সূর্যগ্রহন কালে এ স্তরটিকে দেখি- যা ৭৫০০০ কিলোমিটার প্রলম্বিত আর এর উত্তাপ উন্নীত হয় ২০,,০০,০০০ কেলভিন পর্যন্ত।

আবর্তন ঃ সূর্য ২৫.৪ দিনে একবার আবর্তিত হয় কিন্তু সূর্য চন্দ্র কিংবা অন্যান্য গ্রহের মতো কঠিন নয় বিধায় সব সময়ে একই নিয়মে আবর্তিত হতে পারে। কখনও এ আবর্তনের সময় সীমা ৩৬ দিনেও হয়।

সূর্যগ্রহন ঃ যখন চন্দ্র ও পৃথিবী একই সমান্তরাল রেখায় চলে আসে- তখন সূর্যালোকে দৃষ্টি গোচর হয়না। আর একেই বলা হয় সূর্যগ্রহন। আর এ সময়ে জ্যোতিবিজ্ঞানীগন সূর্যগ্রহন কালীন সূর্যালোক পুরো পুরি দেখতে পান।

দশম গ্রহ ঃ ২০০৩ সালে ইউরোপীয় মহাশূণ্য পর্যবেক্ষন কেন্দ্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষন সংস্থা যৌথভাবে ইউবি ৩১৩ নামে একটি গ্রহ আবিস্কার করেন- যার ছদ্ম নাম ‘সিনা’। আনুমানিক এর ব্যাস ৩০০০ কিলো মিটার-যা প্লুটো হতে বড়। এর একটি উপগ্রহ রয়েছে।

সৌর মন্ডল-২
চাঁদের তথ্যাবলী ঃ পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ সৌরমন্ডলে বৃহত্তম উপগ্রহ এবং খুবই জনপ্রিয়। ইহাই একমাত্র উপগ্রহ যেখানে সর্ব প্রথম মানুষের পদচারনা ঘটে। চাঁদের ব্যাস ৩৪৭৫.৬ কিলেমিটার। পৃথিবী হতে এর দূরত্ব সব সময় সমান থাকে না। ১৯১২ এর দূরত্ব বেড়ে দাঁড়ায় ৪০৬৭১১ কিলোমিটার। আবার ১৯৮৪ সালে এর দূরত্ব ছিল ৩৫৬৩৭৫ কিলোমিটার। গড় দূরত্ব ৩৮৪৪০৩ কিলোমিটার। ভর ৭৩৪৫৫৬,০০০,০০০ টন। মজার ব্যাপা হলো একজন মানুষের ওজন হবে ১০.৭৯ কেজি। নিজকে আবর্তন করতে চাঁদের সময় লাগে ২৭ দিন ৭ ঘন্টা ৪৩ মিনিট ১১.৫ সেকেন্ড। চন্দ্র পৃষ্টের উত্তাপ +১৬৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস হতে -১১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সবচে‘ বড় গর্ত দক্ষিন মেরু এইটকেন যার পরিধি ২১০০ কিলোমিটার আর গভীরতা ১২ কিলোমিটার। ১৯৫৯ সালের সোভিয়েত রাশিয়ার মহাশূন্যযান লুনা-৩ চাঁদের পূর্ণাঙ্গ ছবি পাঠানোর আগ পর্যন্ত চাঁদের দূরবর্তী প্রান্ত সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষ তেমন কিছু জানতোনা।

মহাশূন্যে অবস্থিত বিভিন্ন গ্রহের নিজস্ব্ উপগ্রহ তথা চাঁদের মাঝে শনিগ্রহের টাইটানিক মুন খ্যাত চাঁদ শনিগ্রহের ৩৪টি চাঁদের মাঝে সর্ববৃহৎ। এর ব্যাস ৫১৫০ কিলোমিটার-যা প্লটো গ্রহের চেয়েও বড়। ১৬৫৫ সালে পর্তুগীজ মহাকাশ বিজ্ঞানী খ্রিশ্চিয়ান হেগেনস টাইটানিক আবিস্কার করেন। তবে আজ পর্যন্ত টাইটানিকের উপরিপৃষ্ঠ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যাচ্ছে না এই জন্য যে এর উপরিভাগ- যা আজ হতে চারশত কোটি বছর আগের পৃথিবী পৃষ্ঠের মতো অন্ধকারাচ্ছন্ন। ১৯৮০ সালে প্রেরিত ভয়েজার-১ নামক মহাশূণ্যযান প্রেরন এবং সম্প্রতি প্রেরিত রেডিও টেলেস্কোপ পাঠিয়ে জানতে পারা যায় এর উপরিভাগে ইথেন গ্যাসের সমুদ্র এবং কঠিন বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত।

নেপচুনের চাঁদ আবিস্কৃত হয় ১৮৪৬ সালে-যা সৌরমন্ডলের একমাত্র বৃহত্তম চাঁদ এবং তা নেপচুনকে বিপরীত দিক হতে প্রদক্ষিন করে।

হেলির ধুমকেত ঃ বৃটিশ মহাশূন্য বিজ্ঞানী এডমন্ড হেলি ১৬৮২ সালের একটি ধুমকেতু আবিস্কার করেন-যা তাঁর নামে নামকরন করা হয়-হেলির ধুমকেতু হিসেবে। তিনি বলেছিলেন এ ধুমকেতুটি এরপর ১৭৫৯ সালে আবার পৃথিবী থেকে দেখা যাবে এবং হলোও তাই। তাঁর ভবিষ্যৎবানী অনুযায়ী প্রতি ৭৬ বছর অন্তর অন্তর হেলির ধূমকেতু পৃথিবী হতে দেখা যায়। আর ধূমকেতুর ধুলোবালি, পানি এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বরফ দিয়ে তৈরী। অনেকের বিশ্বাস ধূমকেতু পৃথিবীর নিকটতর হলেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের মাইলফলক
খ্রিষ্টপূর্ব- ৫৮৫ অব্দঃ সূর্যগ্রহন সম্পকে প্রথম ধারনার উদ্ভব।
-১৩০ অব্দঃ হাইপারক্লাস চাঁদের দূরত্ব এবং এর আয়তন নিরূপন করেন।
১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দে কোপারনিকাস দেখালেন যে সূর্যই সৌরমন্ডলের কেন্দ্রে অবস্থিত।
১৬০৯” জোহানেস কেপলার গ্রহপূঞ্জের আবর্তনের সূত্র বর্ণনা করেন।
১৬১০” গ্যালেলিও গ্যালেলি বৃহস্পতির উপগ্রহ আবিষ্কার করেন।
১৬৫৫” খ্রিশ্চিয়ান হাইজেন্স শনিগ্রহের উপগ্রহ তথা চাঁদ টাইটান আবিস্কার করেন।
১৬৮৭” আইজাক নিউটন গ্রহপূঞ্জের আবর্তনের সূত্র প্রকাশা করেন।
১৭০৫” এডমন্ড হেলি ধূম কেতুর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে মতবাদ দেন।
১৬৭১-৮৫” পিত্তভেন্নি ক্যাসিনি শনি গ্রহের ৪টি চাঁদ আবিস্কার করেন।
১৭৭৪” চার্লেস মেসিয়ার তারকা পূঞ্জের ক্যাটালগ তৈরী করেন।
১৭৮১” উউলিয়াম হার্শেল ৭ম ইউরেনাস গ্রহ আবিস্কার করেন।
১৮০১” গুইসেপ্পি পিয়াজ্জি সর্বপ্রথম মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তি গ্রহপূঞ্জ আবিস্কার করেন।
১৮৪৬” জোহান গেলি এবং আরবেইন লা ভেরিয়ার মহাশূন্যের ৮ম গ্রহ নেপচুন আবিস্কার।
১৭৮৭-৮৯” হার্শেল ইউরেনাস ও শনিগ্রহের ২টি করে চাঁদ আবিষ্কার করেন।
১৮৩৯-৪০” চাঁদের ছবি তোলা হয়।
১৮৯৪” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার ফ্ল্যাগস্টার পর্যবেক্ষন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৯০৫” আইনষ্টাইনের মধ্যাকর্ষন শক্তি মতবাদ প্রকাশিত হয়। অথচ তার জন্যেও ৬ শত বছর আগে ইরানের ইবনে হিশাম মধ্যাকার্ষন শক্তির আবিষ্কারক।
১৯০৮” বৃহত্তম এবং ক্ষুদ্র তারকার সংজ্ঞা দেয়া হয়।
১৯২৩” তারকাপূঞ্জের পেছনের ছায়াপথ প্রমানিত হয়।
১৯২৭” বিগ ব্যাংঙ থিওরি” সর্ব প্রথম উত্থাপন করা হয়।
১৯৩০” নবম গ্রহ প্লেটো আবিষ্কার করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লাইডে টমবপ।
১৯৫৯” সোভিয়েত উপগ্রহ লুনা-৩ চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবি পাঠায়।
১৯৬১” সর্ব প্রথম কোয়াশার আবিষ্কৃত হয়।
১৯৬৭” সর্ব প্রথম পুলসারস চিহ্নিত করা হয়।
১৯৭১” কৃষ্ণগহ্বর সর্ব প্রথম চিহ্নিত করা হয়।
১৯৭৩” স্কাইল্যাব নামক মহাশূন্য ল্যাবরেটরী কক্ষপথে নিক্ষেপ করা হয়।
১৯৭৬” ইউরেনাস গ্রহের বর্হিচক্র আবিষ্কৃত।
১৯৭১” মহাশূণ্যযান মেরিনার-৯ মঙ্গলগ্রহের মানচিত্র ধারন করে।
১৯৮০” ভয়েজার-১ মহাশূণ্যযান শনিগ্রহে প্রেরন।
১৯৭৮” পায়োনিয়ার-১ এবং ২ শুক্র গ্রহে পৌঁছে।
১৯৯৮” আন্তর্জাতিক মহাশূণ্য স্টেশন নির্মান শুরু।

বিশ্বের সেরা জ্যোতিবিজ্ঞানীগন
মহাকাশ বা জ্যোতিবজ্ঞিান বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রহ দেখা যায় সাধারনতঃ ষোড়শ শতাব্দি থেকে। অথচ তারও সাতশত বছর আগেই মহাকাশ বিজ্ঞানের উল্লেখ করার মতো নির্ভুল তথ্য উপাত্ত বিশ্ব মানবের নিকট উপস্থাপন করেন যে সকল মহা মনীষী মুসলমান জ্যোতিবিজ্ঞানীগন, আমরা যেন তাদের ভুলেই গেছি। অষ্টম শতাব্দি থেকে একাদশ শতাব্দি পর্যন্ত মুসলমান জ্যোতির্বিজ্ঞানীগন মহাকাশ গবেষনায় যে অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন- তা আজও একেবারে নির্ভুল প্রমানিত। নবম শতাব্দিতেই খলিফা হারুন-অর-রশিদেও খেলাফরত আমলেই বাগদাদে স্থাপিত হয়েছিল এ্যাস্ট্রোল্যাব। মহাকাশ পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। ৮৪৩ খ্রিস্টাবে। অনুরূপভাবে সিরিয়াও সে সময়ে আরো ২টি এ্যাস্ট্রোল্যাব স্থাপিত হয়। ভাবতে অবাক লাগে আলবার্ট আইস্টাইনের জন্মেরও প্রায সাড়ে ছয়শত বছর আগে পারস্যেও ইবনে হিশাম নিভূলভাবে মধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেন।
ভুলে গেছি ৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহনকারী জ্যোতিবিজ্ঞানী আবু আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমির মতো মনীষীকে। ভুলে গেছি জাবির ইবনে হাইয়ানের মতো জ্যোতিবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদকে, ইবনে হাইসামকে, আল কিন্দি, আল বলখিকে, আল-বাত্তানীকে- যিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন সৌর বছরের নির্ভুল সময়কাল- ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। শ্লেশিয়ান মোশনের যুগান্তকারী মতবাদ দাতা নূর-আল-দীন ইবনে ইসহাক আল বেতরুগিকে, ভুলেছি আল-সাইগের মতো জ্যোতির্বিদকে, ওমর খৈয়ামকে, সূর্যের সর্বোচ্চ গতির প্রমানকারী আল জারকালীকে, পৃথিবীর নির্ভূল ব্যাস নির্ণয়কারী আল- ফারগানীকে, ছায়াপথের নির্ভূল গঠন শনাক্তকারী নাসির উদ্দিন তুসিকে, পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারনকারী বানু মুসাকে, আলোক বিজ্ঞানের জনক ইবনে হিসামকে। ইবনে সিনাকে শুধু জানি চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে। অথচ জ্যোতির্বিজ্ঞানেও তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। ৭২৮ খ্রিস্টাব্দেই মহাকাশ পর্যবেক্ষন কেন্দ্র তথা মানমন্দির বাগদাদে নির্মিত হয়। আর এবিষয়ে বিজ্ঞানী ছিলেন হাজ্জাজ ইবনে মাসার এবং হুনাইন ইবনে ইসহাক। অথচ পঞ্চাদশ শতাব্দির শেষাব্দ ছাড়া ইউরোপীয়দের বিজ্ঞানজগতে পদার্পনের কোন তথ্য পাওয়া যায়না। সাম্প্রতিক এনসাইক্লোপিডিয়া অব সাইন্স পড়তে গেলে থমকে যাই, কারন সেখানে মুসলমান বিজ্ঞানীদের নাম পাওয়া যায় না। মজার ব্যাপার হলো দতুর্দশ শতাব্দিতে এবং পঞ্চাদশ শতাব্দিতে বাগদাদের পতন এবং মিশরের পতন ঘটে ইউরোপীদের হাতে-যারা সর্ব প্রথম বাগদাদ লাইব্রেরী এবং আকেজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরী হতে মুসলমান বিজ্ঞানীদের সমস্ত বিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য উপাত্ত লুট করে নিয়ে যায়, যা আজও ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে দেখতে পাওয়া যায়। শিক্ষা ব্যবস্থার যে মৌলিক মূলধন কাগজ তাও ৭০৪ সালে বাগদাদের কাগজ কল স্থাপিত হয় মুসলমানদের দ্বারা। আর এখন শুনতে হয়-মুসলমানরা বিজ্ঞান মনষ্ক নয় এবং ইসলাম বিজ্ঞান মনষ্ক ধর্মও নয়!

মহাশূণ্যে ভ্রমনে বিভিন্ন জন্তু
বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় একমাত্র মানব জাতির অবদানই আমরা জানি। তবে মহাশূন্য ভ্রমনে মানুষের আগে বানর, কুকুর, বিড়াল, ব্যাঙ, মাকড়শা, ইঁদুর, মৌমাছি প্রভৃতি মহাশূন্য ভ্রমন করেছে। ১৯৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহাশূন্যে নয়-তবে শূন্যে আবর্তনকারী একটি জার্মান ভি-২ রকেটে পরিভ্রমনকারী হিসেবে ২টি বানর পাঠায়। দু‘টি বানরই মারা যায়। ১৯৫৭ সালের ৩রা নভেম্বর সৌভিয়েত রাশিয়া মহাশূন্যযান স্পুটনিক-২ মহাশূণ্যে উৎক্ষেপনন করে- যাতে ‘লাইকা’ নামক একটি জীবিত কুকুর ছিল। দীর্ঘ পরিভ্রমনের পর মহাশূণ্য যান পৃথিবীতে ফেরত আসে। কুকুরটিও জীবিত ছিল। ১৯৬০ এবং ১৯৬৩ সালে যথাক্রমে ¯্রামোয়েড এবং স্ট্রেলকা নামক দু’টি কুকুর এবং একটি বিড়াল মহাশূন্য ভ্রমন করার সৌভাগ্য অর্জন করে।

পশ্চিমা বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানীগন
১। জন কোচ এ্যাডামসঃ বৃটিশ মহাকাশ বিজ্ঞানী যিনি (১৮১৯-৯২) লিওনিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তিনি নেপচুন গ্রহের অবস্থান আবিষ্কার করেন ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে।
২। এডওয়ার্ড ইমারসন বার্নাডঃ (১৮৫৭-১৯২৩) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ইনি বার্নাড স্টার এবং আমালথিয়া নামক জুপিটার গ্রহের চাঁদ আবিষ্কার করে।
৩। নিকোলাস কোপারনিকাসঃ (১৪৭৩৩-১৫৪৩৩) পোল্যান্ডের জ্যোতিরর্বিজ্ঞানী। তিনিই আবিষ্কার করেন যে জ্যোতির্মন্ডলের কেন্দ্রে সূর্যের অবস্থান।
৪। গ্যালেলিও গ্যালিলিঃ ইতালির অংক শাস্ত্রবিদ। তিনিই প্রথম মধ্যকর্ষন শক্তি এবং গ্রহের গতি আবিষ্কার করেন। তিনি মহাকাশ পর্যবেক্ষনের জন্য দূরবীক্ষন যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
৫। জর্জ এলারি হেইলঃ (১৮৬৪-১৯৩৮) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞানী যিনি টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন-যার সাহায্যে মহাকাশের অনেক অজানা গ্রহপূঞ্জ আবিষ্কৃত হয়।
৬। এডমন্ড হেলিঃ (১৬৫৬-১৭৪২) বৃটেনের জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
তিনি ধুমকেতুর কক্ষপথ আবিষ্কার করেন।
৭। উইলিয়াম হারশেলঃ (১৭৩৮-১৮২২) জার্মান ও বৃটিশ নাগরিক। তিনি বৃহত্তম টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন। তৈরী করেন তারকা পূঞ্জের তালিকা, আবিষ্কার করেন শনিগ্রহ ও উইরেনাসের চাঁদ।
৮। এডউইন হাবলঃ গুরুত্বপূর্ণ ছায়া পথের আবিষ্কারক। হাবল, স্পেস টেলিস্কোপ তাঁর সম্মানেই নামকরন করা হয়।
৯। খ্রিশ্চিয়ান হিউজেনঃ (১৬২৯-১৬৯৫) হল্যান্ডের নাগরিক। ইনি শনি গ্রহের পরিবেষ্টিত চক্র আবিষ্কার করেন এবং আলোর তরঙ্গ আবিষ্কার করেন।
১০। পার্সিভাল লোয়েলঃ (১৮৫৫-১৯১৬) মার্কিন বিজ্ঞানী। তিনি যুক্তরাস্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত লোয়েল মহাশূন্য পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ভবিষ্যৎ বানী করেছিলেন যে, মহাশূন্যে একটি গ্রহ দেখা যাবে- যা প্লুটো নামে খ্যাত এবং পরে ঠিক তাই আবিষ্কৃত হয়।
১১। চার্লেস মেসিয়ারঃ (১৭৩০-১৮১৭) ফরাসী জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি ধুমকেতু এবং চন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহনের উপর অধ্যায়ন করেন কিন্তু তিনি গ্রহপূঞ্জীর জন্যই বেশি পরিচিত।
১২। আইজাক নিউটনঃ (১৬৪৩-১৭২৭) বিশ্বের সেরা বৃটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাঁর মধ্যাকর্ষণ শক্তি বিষয়ক ধারনা এবং গ্রহ সমূহের গতি তথা ঘূর্ণায়ন বিষয়ক অভিমত তাকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অভিষিক্ত করেছে।
১৩। হেনরিক ওলবারসঃ (১৭৫৮-১৮৪০) জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি নক্ষত্র ও তারকাপূঞ্জ আবিষ্কারক হিসেবে খ্যাত।
১৪। গুইসেপ্পি পিয়াজ্জাঃ (১৭৪৬-১৮২৬) ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যবর্তী তারকাপূঞ্জ আবিষ্কার করেন। ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সিরিস গ্রহ আবিষ্কার করেন।
ঢাকাঃ ১২ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং।

 

আহমেদ উল্লাহ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আয়কর আইনজীবী :

Please follow and like us:
0
20
Pin Share20

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::
RSS
Follow by Email
YOUTUBE
PINTEREST
LINKEDIN