আলুতে সবুজ দাগ মানে বিষক্রিয়ার লক্ষণ

আলুতে সবুজ দাগ মানে বিষক্রিয়ার লক্ষণ

আলু এমন একটা সবজি যা সব কিছুতেই খাওয়া যায়। সহজলভ্য হওয়াতে আলুর বিষয়ে অনেকেই খুব একটা সচেতন নয়। আলুতে অনেক সময় দাগ-ছোপ দেখেও আমরা অনায়াশে তা খেয়ে ফেলি।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, আলুতে থাকা দাগ ছোপ হতে পারে নানান রোগের কারণ।
আলুতে সবুজ দাগ থাকলে তা খাওয়া উচিত নয়
সূর্যালোক ও উষ্ণতার কারণে আলুর গায়ে সবুজ দাগ সৃষ্টি হয়। যা মূলত উচ্চমাত্রার বিষাক্ত উপাদান সোলানিন। এই বিষ থেকে শরীর খারাপ হতেই পারে। তাই আলুতে সবুজ দাগ দেখা দিলে না খাওয়াই ভালো।ভাবতে পারেন যে আলুর সবুজ অংশ কেটে ফেলে বাকিটা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটা কোনো সমাধান না।‘হেলথলাইন ডটকম’য়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বেস্টলাইফ ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলুতে ক্লোরোফিল উৎপাদন শুরু হলে তা সবুজ হয়ে যায় যা একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে যখন এই দাগ চোখে পড়ে ততদিনে আলুতে সোলানিন উৎপাদন শুরু হয়ে যায় যা প্রাণী, পোকামাকড়, ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাসের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। সোলানিন হল একটি বিষ যা আলুতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। শুধু সবুজ দাগ নয়, এবং এর উচ্চ মাত্রা মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
একটা খারাপ আলু হতে পারে অসুস্থতার কারণ
আলুর খোসায় সোলানিনের মাত্রা বেশি থাকে এবং আলুতে থাকা সবুজ দাগ কেটে ফেললেও সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয় না।২০০৫ সালে ‘রেগুলেটরি টক্সিকোলজি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি ‘কেস স্টাডি’তে দেখা গেছে, খোসা ছাড়ালে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিষ হ্রাস পায়। তবে বাকিটা আলুতে রয়ে যায়।
হেলথলাইন ডটকম’য়ের মতে, কতটা সোলানিন গ্রহণ করলে মানুষ অসুস্থ হতে পারে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নন। তবে ‘কেস স্টাডি’তে দেখা গেছে, দেহের প্রতিগ্রাম ওজনকে দুর্বল করতে ০.৬ মি.লি. গ্রাম সোলানিন যথেষ্ট।প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বাড়তি ২০ মি.লি. গ্রাম সোলানিন যুক্ত ১৬ আউন্স আলু গ্রহণ করলে প্রতি ৩.৫ আউন্স (১০০ গ্রাম) দেশের ১১০ পাউন্ডকে অসুস্থ করে ফেলে। দুর্বল ও শিশুদের সবুজ দাগযুক্ত আলু খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। কারণ যাদের দেহের ভর কম। ফলে সোলানিনের বিষক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করে, ‘মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি’।
সোলেনিনের বিষক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
ইতোমধ্যে খোসা যুক্ত বা ছাড়া অবস্থায় সবুজ দাগযুক্ত আলু খাওয়া হয়ে গেলে তার বিষক্রিয়ায় লক্ষণগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।‘মেডিকেল নিউজ টুডে’ অনুযায়ী, সোলানিনের বিষক্রিয়ার লক্ষণগুলো হল- জ্বর, মাথাব্যথা, পেটেব্যথা, ডায়রিয়া, দেহের তাপমাত্রা কমা, বমিভাব, ধীর হৃদগতি এবং ধীর শ্বাসক্রিয়া।
এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।মৃদু লক্ষণ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান হয়ে যায়। তবে মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা পক্ষাঘাত, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, কোমা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ
‘হেল্থ লাইন ডটকম’য়ের মতে- আলুতে কোনো প্রকার আঘাত লাগা, অতিরিক্ত আলো ও উচ্চ তাপমাত্রা আলুতে বিষক্রিয়া বাড়াতে পারে।তাই আলু ঠাণ্ডা, অন্ধকার স্থানে মাটিতে ছড়িয়ে রাখা ভালো। এতে সোলানিন বৃদ্ধির ঝুঁকি হ্রাস পায়।আলু অস্বচ্ছ বস্তা বা প্লাস্টিকে রাখা ভালো যেন বাড়তি আলো সংবেদন বাড়াতে না পারে।আর বাজার থেকে আলু কেনার আগে তা ভালো মতো দেখে নেওয়া দরকার। যেন এতে কোনো সবুজ দাগ না থাকে।

 

Please follow and like us:
0
20
Pin Share20

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::
RSS
Follow by Email
YOUTUBE
PINTEREST
LINKEDIN