Search
Thursday 2 April 2020
  • :
  • :
সর্বশেষ সংবাদ

ভারতের নাগরিকত্ব আইন নির্লজ্জ মুসলিম বিদ্বেষ

– এ্যাডভোকেট মোঃ আব্বাস উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

মানুষের দীর্ঘ দিনের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা হয়, “কয়লা শতবার ধুলেও তার রং বদলায় না।” দীর্ঘকালের অনুসৃত স্বভাব যেমন ব্যক্তি মানুষ বদলাতে পারেনা- অনুরূপভাবে পারেনা দীর্ঘ দিনের অনুসৃত বিশ্বাসে বিশ্বাসী মানব জাতিও। ভারতের প্রাচীন ইতিহাস অধ্যায়ন করলে সহজে অনুভব করা যায় ভারতীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী জন কওম খৃষ্টপূর্ব ১৯৩৮ সালের লালিত বোধ ও বিশ্বাসের নাগপাশ হতে তো মুক্ত হতে পারেইনি, বরং ক্রমশঃ তার বিধ্বংসী মহড়া বেড়েই চলছে। তারা যে শুধু মহেনজোদারো আর হরপ্পা সভ্যতারই পতন ঘটিয়েছে তাই নয়, প্রতিদিন, প্রতি মর্হুতে ভিন্ন বিশ্বাসী ভারত বাসিকে হত্যা এবং অত্যাচারের মাধ্যমে নিজেদের আভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক উথাইয়া নাইডুর “দ্য বাইবেল অব এরিয়ান ইনভেশন” বইটি অধ্যায়ন করলে বোঝা যায়, আজ হতে প্রায় চার হাজার বছর আগেকার পরিকল্পনা হতে তারা মূহুর্তের জন্যও থমকে দাঁড়ায়নি অযজমান তথা অহিন্দু বধের প্রতিজ্ঞা হতে। আর ১৭৫৭ সালের পলাশীর ঘটনা তো কম বেশী সবারই জানা। এ বর্ণবাদী হিংসার পরিনতিতে এদেশবাসি ১৯০ বছর গোলামীর জিঞ্জির বয়ে বেড়ালেও এরা ছড়ি ঘুরিয়েই চলেছে।আর্য নাম ধারী ভারতের এ জন সম্প্রদায়ের আদি পুরুষদের কেউই ভারতের সন্তান নহেন। এরা সিরিয়া, ইরাক, ইরান, গ্রীস, পর্তুগাল, পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপীয় স্বেত চর্মধারী একদার যাযাবর। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, দ্রাবিড়ীয় সভ্যতা যখন তুঙ্গে, আর্যগন তখনও বস্ত্র পরিধান এমনকি কৃষি কাজের কৌশলও ছিলো তাদের অজানা। একটি শান্তিপ্রিয় সভ্য জাতির সরলতা এবং শান্তিপ্রিয় মনোভাবকে পন্য করে একটি জাতিকে কিভাবে অধঃপতনের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে হয় কৌটিল্য কুটনীতির জন্মদাতা আর্যদের অপকৌশলের খোঁজ খবর যারা রাখেন, এক মাত্র তারাই উপলব্ধি করতে পারেন, জাত পাতের নোংরা এবং বিধ্বংসি কৌশলের কৌশলী আর্য দর্শনের লক্ষ্য। এরা ভীষন কুটকৌশলী। ঐ যে বলে, “মুখ মে শেখ ফরিদ, বগল মে ইট” আর এটাই তাদের জাতিগত আদর্শ। ধর্মনিরপেক্ষতার চাদরে মোড়া সাম্প্রদায়িক বিস্ফোরক। জাত পাতের অভিশাপে এ ভারত উপমহাদেশের জন সম্প্রদায় যখন বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে, তখন গৌতম বুদ্ধ জাতপাতবিহীন বৌদ্ধ ধর্মের ঘোষনা দিলে শ্রেণী দোষে ক্লিষ্ট জনগনের মাঝে এর আবেদন যাদুকরী প্রভাব ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে আর্য ধর্মাচারীগন গৌতম বুদ্ধুকে তাদের নবম অবতার হিসেবে ঘোষনা করে বুদ্ধকে পূজা দিতে থাকে। মন্দিরে বুদ্ধের মূর্তি স্থাপন করে পূজা দিতে থাকে যদিও বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে।পরিস্থিতি ক্রমশঃ আর্যদের অনুকুলে চলে যায়। শুরু হয় বৌদ্ধ নিধন। যে ভূ খন্ডে বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি, সে ভূ খন্ড অচিরেই বৌদ্ধ শূণ্য হয়ে যায়। মজার ব্যাপার হলো বেশ কিছু আর্য বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করে এর নেতৃত্বে উঠে আসে। ফলে বৌদ্ধ ধর্মের খোল নলচে পাল্টে যায়। আর এ সর্বংসহা বৌদ্ধ ধর্ম ও আজ বৌদ্ধের খোলসে আঁটা উগ্র সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় বিশ্বাসে রূপান্তরীত। মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আচরনের সাথে ভারতের রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ বা বিজেপির সাথে কি কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়? রোহিঙ্গা নির্মূলে বিশ্বব্যাপী যখন প্রতিবাদের ঝড়, মিয়ানমার সরকার যখন অবরুদ্ধ, ভারতের বিজেপি শাসিত সরকার প্রধান মোদি এক দৌড়ে মিয়ানমার পৌঁছে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী সূচীকে সমর্থন জানান। মিয়ানমারকে সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহের চুক্তি করেন। এতে রয়েছে সর্বাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র এবং সাব-মেরিনও।ভারতের সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব বিল পাশের মাধ্যমে শুধু আসাম রাজ্য হতেই উনিশ লাখের অধিক মুসলমানকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। তাদেরকে নাৎসী নেতা হিটলারের ইহুদী নিধন যজ্ঞের সূচনা লঘেœ যে “কনসেট্রেশন ক্যাম্পে” রাখা হয়েছিল- ভারতও তাই করছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জনসভায়ই ঘোষনা করেন, “মুসলমানদের লাথি মেরে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করবো।” এরপরও ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ? প্রতিদিনই বাংলাদেশের সীমানা ডিঙ্গিয়ে জীবন বাঁচাতে ভারতীয় মুসলমানরা বাংলাদেশে ঢুক্ছে। সারা ভারত ব্যাপী তথাকথিত নাগরিকত্ব বিলের নামে মুসলমান বিতাড়নের মহড়া চলছে। আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট মোতাবেক ভারতের নাগরিকত্ব বিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে অনাকাংখিত বৈষিম্য এবং এ আইনটি আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিন পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মানাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, এখানে ধর্মীয় বৈষম্য করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন। এতে লংঘিত হয়েছে ভারতের সংবিধানের ১৪ এবং ১৫ অনুচ্ছেদ। বলে রাখা ভালো যে ভূ-খন্ডে যার জন্ম, দীর্ঘকালীন বসবাস সে তো সে ভূখন্ডেরই নাগরিক। আর ভারত তো এমন আহামরি কোন উন্নত এবং সামাজিকভাবে সুশৃঙ্খল দেশ নয়, যে সেখানে প্রতিবেশী দেশের লোক গিয়ে বসবাস করবে। প্রকৃত অর্থে ভারততো মুসলমানদেরই দেশ। এখানে সুপ্রাচীন কাল হতে মুসলমানরা বসবাস করে আসছিলো। হযরত নূহ (আঃ) এর বংশধর হযরত আবি পীর (আঃ) এর নামেই ভারত বহু হাজার বছর ব্যাপী ‘দ্বারই-ই-আবির’ নামে খ্যাত ছিলো। আর এজন্যই এদেশ বাসিকে দ্রাবিড় বলা হলো। হিং¯্র দখলদারদের নখের আঘাতে এ একবিংশ শতাব্দিতেও দখলদার আর্য দর্শন মানবাধিকারকে ধর্ষন করছে-কারন এটাই তাদের জাত স্বভাব।
ভারত বৃহত্তর দেশ হলেও তাদের অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের বাংলাদেশ থেকে। এখানে ৮ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। অথচ চাকুরী ক্ষেত্রে তারা ৩০ শতাংশ। হিন্দুদের বিভিন্ন পূজা উপলক্ষ্যে আমাদের সরকার মোটা অংকের অনুদান দিয়ে থাকে। ভারতীয় নাগরিকরা এদেশে চাকুরী করে বছরে পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকারও অধিক ভারতে পাঠায়-যেখানে আমাদের সন্তানেরা বেকার। সতের কোটিরও অধিক নাগরিকের এ ছোট্ট দেশটির সমুদ্র বন্দর, নদী এবং রাস্তা যেখানে আমরাই চলতে পারছিনা- ভারতকে আমরা অবাধে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছি- সেখানে ভারতের এ আচরন দুঃখজনক। পৃথিবীর কোন প্রতিবেশী দেশই সীমানা লংঘনের অপরাধে ধৃত প্রতিবেশীর নাগরিককে হত্যা করেনা-যা ভারত করে প্রতিদিন। একে সময় আমাদের দেশের ভেতরে ঢুকে গরু নিয়ে যায়, আমাদের নাগরিকদের ধরে নিয়ে যায়, হত্যা করে- যা কোন সভ্য মানুষের পক্ষ্যে সম্ভব নয়। একজন মানুষের কাছে আরেকজন মানুষ যদি নিরাপত্তাই না পেলো-তবে মানুষ হিসেবে সে হিং¯্র মানুষটির পরিচয় কি শোভনীয়? আমরা এদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা পার্বনে যে সহযোগিতা করি-ভারত কি মুসলমানদের কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কোন সহযোগিতা করে? কেন মুসলমানদের বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হলো? যে রামচন্দ্রের জন্মস্থান অযোধ্যাকে বলা হয়- তাঁর জন্মস্থান তো কিনানে অর্থাৎ ফিলিস্তিনে (দ্যা বাইবেল অব এরিয়ান ইনভেশন-অধ্যাপক উথাইয়া নাইডু দ্রষ্টব্য)। ধর্মীয় বোধের পার্থক্য মানবতার সীমাকে লঙ্গন করলে- তা সে ধর্মের অসারতাকেই তুলে ধরে। আফসোস-মানব জাতি গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে যাচ্ছে, অথচ মানুষ রূপে নিজকে উপস্থাপন করতে পারে না। মানবতা বোধ বিবর্জিত মানুষ দেখতে মানুষের মতো মনে হলেও এরা হিং¯্র প্রাণীরই সর্বশেষ সংস্করন। আধুনিক ডাইনোসরস।

– এ্যাডভোকেট মোঃ আব্বাস উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরো সংবাদ




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close