Search
Friday 5 June 2020
  • :
  • :

বাগেরহাটে ঘুর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবে বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি

আবু হানিফ, বাগেরহাট অফিসঃ সুপার সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ,ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। জেলায় প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক মৎস্য ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে।তবে জেলার কোথাও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।বিভিন্ন উপজেলায় সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।জেলার অধিকাংশ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।মোংলা বন্দরের পন্য ওঠানামাসহ বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বুধবার রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা উপজেলার বগী-গাবতলা অংশের ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।এতে বাঁধের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।এছাড়া বাঁধের আশপাশের বেশকিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বির্ধ্বস্ত হয়েছে।উপড়ে পড়েছে বেশ কিছু গাছপালা। জেলার শরনখোলা উপজেলার হানিফ শেখ বলেন,রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে আমার বসতঘর ভেঙে পড়েছে।ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে ভেসে গেছে মাছের ঘের। উপজেলায় আমার মতো অনেকের এ রকমের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। জেলার কচুয়া উপজেলার তুহিন শিকদার বলেন,রাতে ঝড়ের আঘাতে বাড়ির বসত ঘরের উপরে গাছ উপড়ে পড়ে ঘরটি ভেঙ্গে গেছে।বাগানের কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে ও গোয়ালঘর পড়ে গেছে। শরনখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি পড়ে গেছে,উড়িয়ে নিয়ে গেছে ঘরের টিনের ছাউনি।উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা।নদীর পানির চাপে বেড়ি বাঁধের কয়েকটি স্থানও ভেঙে গেছে।ফলে সাউথখালী,দক্ষিণ সাউথখালী, তেরাবেকা,বগী,গাবতলীসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান,ঝড়ে জেলার ৪ হাজার ৬শত ৩৫টি মৎস্য ঘের ভেঁসে গেছে।সব থেকে বেশী ক্ষতি হয়েছে মোংলা,রামপাল,শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ও কাড়াপাড়া ইউনিয়নে। এতে জেলার কয়েক হাজার চিংড়ি চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।সরকারী ভাবে ক্ষতি ধরা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।তবে বেসরকারী হিসেবে এক্ষতির পরিমান আরোও বেশি বলে জানিয়েছেন চিংড়ি চাষীরা।ডেমা ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক মো: মনি মল্লিক ও কাড়াপড়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ বশিরুল ইসলাম বলেন,ইউনিয়নের মৎস্য ঘেল,ঘর বাড়ী ও গাছ পালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।তবে এই ক্ষতির পরিমান এই মুহুর্তে বলা মুসকিল।বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ উদ জামান জানান,সুপার সাইক্লোন আম্ফানের স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/৩ পোল্ডারের ২শ মিটার রিংবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ডুকে পড়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্থ বাধ নির্মামে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান,বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বন তলিয়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের কটকা,দুবলা, চরাপুটিয়া ও কোকিলমুনি বন অফিসের কম্পাউন্ডে দল বেঁধে আশ্রয় নেয়া কয়েক শত হরিণ বনে ফিরে গেছে।সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সুন্দরবনে প্রথমে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্ফান।প্রাথমিক ভাবে ৮টি বন অফিসের টিনের চালা উড়ে গেছে ও সম্পূর্ন ভেঙ্গে গেছে ৫টি জেটি।কোন বন্য প্রানী মারা যাবার খবর বা বনের গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি।বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন,ঘূর্নিঝড়ে আগেই জেলার বোরো ধান কৃষকেরা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে।তবে ঝড়ে আউস ও গ্রীষ্মকালীন সবজির সামান্য ক্ষতি হয়েছে,তা নিরুপনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান,সরকার বাগেরহাট জেলার জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল,নগত ৩ লাখ টাকা,২ লাখ টাকার শিশু খাদ্যে,গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দিয়েছে।জেলার কোথাও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।বেশ কিছু ফসল,মৎস্য ঘের,কাচাঘরবাড়ী ও গাছপালা বৈদ্যুতিক খুটি ভেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরো সংবাদ




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close