Search
Saturday 6 June 2020
  • :
  • :

করোনায় কর্মহীন গাইবান্ধার কৃষি শ্রমিক ও শ্রমজীবী

গাইবান্ধা থেকে এল.এন.শাহী:গাইবান্ধায় কৃষি শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। দিন আনি দিন খাই অবস্থার মধ্যে থাকা এসব নারী-পুরুষের এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। কাজ না থাকায় ঘরের সামান্য মজুদের উপর নির্ভর করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম হলেও আয় কমে যাওয়ায় এখন তাদের সাংসারিক চাহিদা মেটাতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় তাদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে লকডাউন করায় সমস্ত দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য-সুরক্ষা বিধি মেনে বেশিরভাগ লোকজন ঘরে অবস্থান করায় শ্রমজীবীদের মধ্যে রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক চালক ও বাস-ট্রাক ড্রাইভার এবং হেলপারদের আয় বহুলাংশে কমে গেছে। শহর-বন্দর ও গ্রামগঞ্জে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন যানবাহন চালিয়েও যা আয় হচ্ছে তাতে তাদের দৈনিক ভাড়া পরিশোধ করার পর হাতে যা থাকছে তা দিয়ে তাদের সংসারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা শহরের ক’জন রিক্সা চালক, ভ্যান চালক ও ইজিবাইক চালকদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।এছাড়া কৃষি ক্ষেত্রে এখন কোন কাজ না থাকায় পেশাদার কৃষি শ্রমিকরা পড়েছে চরম বিপাকে। কারণ এ সময়গুলোতে তারা দিনমজুরীতে অন্যান্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু করোনাভাইরাস আতংকে সবরকম কাজকর্মসহ নির্মাণ কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পেশাদার দিনমজুররা কোন কাজ পাচ্ছে না। ফলে দিনের পর দিন কর্মহীন থাকায় অর্থ সংকটে পরিবার-পরিজন এবং দৈন্যন্দিন সাংসারিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।এদিকে দোকানপাট ও ব্যবসা বাণিজ্য এবং ছোট ছোট কারখানাগুলোতে দিন হাজিরা চুক্তিতে কাজ করা কর্মরত কর্মচারিরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবি হকাররা বেচাকেনা করতে পারছে না। কেননা শহর-বন্দরে লোকজন না থাকায় তাদের হকারি ব্যবসা একেবারেই চলছে না।এসব দিনমজুর, হকার, দোকান কর্মচারি, পেশাজীবি কৃষি শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে লক ডাউনের এই সময়টিতে নিত্যপণ্য ও খাদ্য সহায়তা প্রদান একান্ত অপরিহার্য। এব্যাপারে তারা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের কাছে ত্রাণ সহায়তা প্রত্যাশা করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরো সংবাদ




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close