Search
Tuesday 25 February 2020
  • :
  • :
সর্বশেষ সংবাদ

“আবহাওয়ার অজুহাতে রাজস্ব কমানোর চেষ্টা” অনিয়মের জ্বালে দুবলা শুটকি পল্লী !

আবু-হানিফ, বাগেরহাট অফিস : সুন্দরবনের দুবলার চরে চার মাস পুর্বে শুরু হয়েছে শুটকি মৌসুম । চলতি বছর জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সে ক্ষেত্রে রাজস্ব ঘাটতির আশংকা নেই, বলে আশা প্রকাশ করেছেন বনবিভাগ ।মাছ ধরা, বাছাই, গ্রেডিং সহ প্রক্রিয়াজাত করণে বর্তমানে অনেকটা ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা । তবে, চর গুলোতে উন্নত পরিবেশ না থাকা সহ নানা অব্যবস্থাপনার কারনে মান সম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তবে, ব্যবসায়ীদের মতে ,উন্নত মানের শুঁটকি উৎপাদন করা গেলে সরকারি রাজস্ব আরো বাড়বে । অপরদিকে, রাজস্ব ফাঁকি দিতে বনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারি সাগরে মাছ নেই, এমন অসত্য বিষয় বলে আসলেও চলতি বছরে তার চিত্র বিপরীত । এছাড়া বন বিভাগের রেকর্ড অনুসারে চলতি বছরে শুটকি পল্লীতে প্রায় ১৬ হাজার জেলের থাকার জন্য ৭১৭টি, মহাজনদের ৩৫টি বসতঘর ও মৎস আহরন কাজে ৮৫০ টি নৌকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । তবে, প্রতিটি ঘর ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ অনুসারে তৈরীর নিয়ম থাকলেও বাস্থবে তার ভিন্নতা রয়েছে। জানাগেছে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল্লা, মাঝেরকিল্লা, শেলার চর ও নারকেল বাড়িয়ার চর সহ ৮/১০ টি চরে গত চার দশক ধরে চলছে দুবলা শুঁটকি পল্লী। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাস চালু থাকে শুঁটকি তৈরীর এ মৌসুম। এতে উপকুলীয় এলাকার খুলনা, সাতক্ষীরা, শরণখোলা, বাগেরহাট, মোংলা, রামপাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্্রবাজার, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী সহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে ও ব্যবসায়ী দুবলায় শুঁটকি তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । তবে,পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, শুটকি পল্লীর কয়েক জন মহাজন ও জেলে বলেন, দুবলায় কর্মরত কতিপয় অসাধু বন কর্তা ও কর্মী সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করে অনিয়ম চালাচ্ছেন । শুটকি পরিমাপ ও নৌকার (বি.এল.সি) লাইসেন্স নবায়নের সহ নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন তারা। এমনকি বনজ সম্পদ ব্যাবহারের নিয়ম না থাকলেও অস্থায়ী বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে তা ভঙ্গ করেছেন জেলে ও তাদের মহাজনরা । এছাড়া পল্লীতে অবস্থানরত কয়েক হাজার জেলে তাদের দৈনন্দিন কাজে সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন । যার ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সুন্দরবন। রাজস্ব ছাড়াও ব্যাবসার তহবিল অনুসারে ৩/৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয় ব্যাবসায়ীদের। এ সকল ক্ষেত্রে কোন রিসিপ দেন না বন বিভাগ । পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এ মৌসুমে রাজস্ব কম দেখানোর চেষ্টা করছেন দুবলায় কর্মরত বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্তারা । এ ব্যাপারে, দুবলা টহলফাড়ীর ইনচার্জ অশিত কুমার রায়ের কাছে জানতে চাইলে, নানা অনিয়মের কথা অস্বীকার করে মুঠোফোনে তিনি বলেন, এখানে নিয়মের বাহিরে কোন কিছুই করা হচ্ছে না । তবে ,জ্বালানী ব্যবহার করতে পারবেন জেলেরা। এছাড়া আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রাজস্ব ঘাটতি হবে না। অন্যদিকে , সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, অনিয়মের বিষয় গুলো আমার জানা নেই । খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরো সংবাদ




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close